বাংলাদেশের নদীপথে ট্রানজিট সুবিধা চাইছে ভুটান

নদীপথে ট্রানজিট সুবিধা চাইছে ভারত

স্থলবেষ্টিত হিমালয় রাষ্ট্র ভুটান বাংলাদেশের ভেতর দিনে নৌপথে ট্রানজিট চাইছে। আর নৌপথে ভুটানকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের নদীবন্দরগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ে ভূটানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে কাজ করছে বাংলাদেশের আট সদস্যের একটি কমিটি।

নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান জানিয়েছেন, ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তঃদেশীয় একটি চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশের নদীপথ ব্যবহারের আগ্রহ দেখায় ভুটান এবং নৌপথে ট্রানজিট সুবিধার প্রস্তাব দেয়।

বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে কুড়িগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সড়কপথে এতদিন পণ্য পরিবহন করে আসছে ভুটান।

কিন্তু এখন তারা চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে নৌপথে ট্রানজিট সুবিধা চাইছে।

ভূমি-বেষ্টিত দেশ হওয়ার কারণে ভুটান এতদিন ভারতের বন্দর ব্যবহার করতো এখন বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরও ব্যবহার করতে চাইছে। বিষয়টি জানার পর ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান নৌ পরিবহন মন্ত্রী।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক, সামাজিক, রাজনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করার মনোভাব নিয়ে ট্রানজিট সুবিধার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।

বিবিসিকে তিনি বলেন, “তারা চাইছেন বাংলাদেশের চট্ট্রগ্রাম ও মংলা পোর্ট থেকে আমাদের নদীপথগুলো ব্যবহার করে ভারতের ধুবড়ি পোর্টে তাদের মাল নিয়ে যেতে। ধুবড়ি পোর্ট থেকে ভুটান অনেক কাছে, মূলত আমাদের নদীপথগুলো তারা ব্যবহার করতে চাইছে"।

তিনি আরো জানান, কমিটিগুলো এখন কাজ করছে কীভাবে এটা সম্ভব, চার্জ কী হবে কেমন হবে না হবে এবং কে কতটুকু লাভবান হবে সেটা কমিটি নির্ধারণ করবে বলে জানান নৌ-মন্ত্রী।

কমিটির একজন সদস্য শেখ মাহফুজ হামিদ জানান, নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও, মাওয়া আর চাঁদপুরে নদী বন্দরগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন শনিবার দিতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।

মিঃ হামিদ বলেন,"তিনটি পয়েন্টে কাজ করছি, আমরা জানি কী করতে হবে না হবে। এখানে দুটো বিষয়, ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তঃবাণিজ্য ও আরেকটা হলো ট্রানজিট। ট্রানজিটটা কনটেইনারে করতে হলে পানগাঁওয়ে নতুন যে বন্দর হচ্ছে ওটা তারা পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করবে। আর যদি বেশি করে কার্গো বহনের জন্য ওরা মংলা বন্দরকে ব্যবহার করে তাহলে ট্রান্সশিপমেন্টের কোন পয়েন্ট তাদের দরকার হবেনা”।

বর্তমানে ভারত বাংলাদেশের নদীবন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। ভুটানও এই সুযোগ পেলে হলে বাংলাদেশ কীভাবে উপকৃত হবে এমন প্রশ্নে মিঃ হামিদ বলেন, ভুটানের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ অনেক বেশি বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, "পণ্য আনা নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের সাথে আমরাও উপকৃত হবো। যেমন ধরুন মূল নদী ভরাটের জন্য যে পাথর প্রয়োজন সেই পাথর সবচেয়ে কাছের দেশ ভুটানের আছে। যমুনা সেতু করার সময় প্রয়োজন হয়েছিল আমাদের। সেটা আনার সুযোগ হয়তো আমাদের আছে"।

বাংলাদেশের যেসব পণ্য ভারতে যায় সেগুলো ভুটানে পাঠানো এবং তাদের কাছ থেকে অনেক পণ্য আমদানি করার সুযোগ বাড়বে বলে মন্তব্য করেন মিঃ হামিদ।

তবে মিঃ হামিদ জানান, নদীবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ভারতের সাথে ভুটানের চুক্তি থাকার ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের কোন ধরনের চুক্তি হলে তা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হবে না ত্রিপক্ষীয় সে বিষয়ে একটা প্রশ্ন রয়ে গেছে।

যদিও মিঃ হামিদ মনে করছেন কোন চুক্তি হলে তা দ্বিপাক্ষিক হলেই চলবে।

বাংলাদেশের নদীবন্দরগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জাতীয় স্বার্থের বিষয় চিন্তা করে ভুটানের সাথে নদীপথে ট্রানজিট চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ।