গানের তালে বিএসএফ বিজিবির যৌথ প্যারেডের পরিকল্পনা

petrapole_benapole
Image caption পেট্রাপোল বেনাপোল সীমান্ত

ভারত আর বাংলাদেশের দুই সীমান্ত রক্ষীবাহিনী যৌথ প্যারেডের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে৻

আগামী মাস থেকে প্রথমে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে, তারপরে উত্তরবঙ্গ ও ত্রিপুরার আরও তিনটি সীমান্তচৌকিতে বিএসএফ আর বিজিবি-র সদস্যরা আনুষ্ঠানিক প্যারেড করবেন – যার নাম জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনি৻

বিএসএফ আর বিজিবি-র সদস্যরা অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে বা দূরবীনে চোখ রেখে একে দুষ্কৃতিদের ওপরে কড়া নজর রাখার সঙ্গে সঙ্গেই একতালে পা মেলাবেন সীমান্তের জিরোপয়েন্টে৻ সঙ্গে থাকবে পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের শিল্পীদের গলায় রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের গান, লোকগান, আবৃত্তি, আর স্কুলছাত্রছাত্রীদের নাচ৻ প্রতি সপ্তাহে কয়েকদিন – আধঘন্টার জন্য৻

বিজিবির শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পরে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএসএফের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান বি ডি শর্মা বলছিলেন, “বি জি বি কর্তাদের সঙ্গে আমার একটা বৈঠক হয়েছে দুদিন আগে৻ সেখানে আমরা ঠিক করেছি যে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের গান, আধুনিক গান, লোকসঙ্গীত থাকবে – দু্ই দেশের শিল্পীরাই গাইবেন৻ সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কোরিওগ্রাফি করা হচ্ছে – নৃত্য পরিবেশনের জন্য৻ অর্থাৎ দুই দেশের গান, আবৃত্তি, নাচ – আর দুই বাহিনীর সদস্যরা – এই সব মিলিয়েই জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনি শুরু হবে সামনের মাস থেকে৻”

ভারতের পশ্চিম সীমান্তে – পাকিস্তানি রেঞ্জার্সদের সঙ্গে বিএসএফের জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনি চলে বহু বছর ধরে পাঞ্জাবের ওয়াঘা সীমান্তে৻ কিন্তু সেখানে দুই বাহিনীর মধ্যেই থাকে আগ্রাসী মনোভাব, যা দুই দেশের মানুষই পছন্দও করেন৻

“কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের চরিত্র একেবারেই অন্য – এখানে দুই বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি সব এক৻ তাই এখানকার জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনিকে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসা‌বে তুলে ধরতে চাইছি ‌আমরা, ” বলছিলেন বি ডি শর্মা৻

Image caption বিএসএফের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান বি ডি শর্মা

মি. শর্মা নিজে একজন রবীন্দ্র সঙ্গীত গায়ক আর জেলবন্দীদের অপরাধী-মানসিকতা বদলাতে নাচ-গানের ব্যবহার নিয়ে তাঁর উদ্যোগ সারা দেশেই প্রশংসিত৻

কিন্তু গুলি চালিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা বা নিয়মিত অত্যাচার করাসহ সীমান্ত অঞ্চলের মানুষদের বিএসএফ বিরোধী মনোভাব কি রবীন্দ্রসঙ্গীত – নজরুলসঙ্গীত বা লোকগান দিয়ে বদলানো যাবে না দুই বাহিনীর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থামবে? প্রশ্নটা করেছিলাম বিএসএফের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান বি ডি শর্মাকে৻

তাঁর উত্তর ছিল, “ভুল বোঝাবুঝি যে হয় না, তা বলব না৻ কিন্তু এখন স্থানীয় স্তরেই দুই বাহিনীর অফিসাররা সেগুলো মোবাইল ফোনে কথা বলে মিটিয়ে নেন৻ আর এই মুহুর্তে বিএসএফ আর বিজিবি-র মধ্যে যে সুসম্পর্ক রয়েছে, সেটা কিন্তু আগে কখনও, কোনও দিন ছিল না - এটা জোর গলায় বলতে পারি৻

“একটা রাষ্ট্রের যে শক্তিপ্রদর্শনের অঙ্গ, আমরা, সামরিক বাহিনী তো সেই অঙ্গটার প্রতিনিধি – কিন্তু এই জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনি এমনই একটা অনন্য অনুষ্ঠান হবে, যেখানে দুই সামরিক বাহিনী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আর বন্ধুত্বের বার্তা তুলে ধরবে৻ পারস্পরিক বোঝাপড়া যাতে আরও বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টা করবে বিএসএফ আর বিজিবি,” বলছিলেন বি ডি শর্মা৻

পেট্রাপোলের দিকে এধরনের অনুষ্ঠান করার মতো পরিকাঠামোর কিছু সমস্যা এখনও আছে৻ তবে বিএসএফ বলছে ধীরে ধীরে পরিকাঠামোর সেই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠবেন তাঁরা আর প্যারেডের সময়ে সীমান্তে পণ্য বা মানুষের চলাচল বন্ধও করা হবে না৻

অন্যদিকে জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনির জন্য পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের শিল্পী এবং গান নির্বাচন শেষ, নৃত্য পরিকল্পনাও তৈরি হচ্ছে৻ আর কয়েকদিনের মধ্যেই গান ও আবৃত্তির রেকর্ডিংও সম্পূর্ণ হয়ে যাবে৻ তারপরে মহড়া চলবে কিছুদিন৻

অগাস্টের মাঝামাঝি – ভারতের স্বাধীনতা দিবসের কাছাকাছি কোনও একটা দিনে পেট্রাপোল-বেনাপোলের জিরো পয়েন্টে শুরু হবে এই যৌথ অনুষ্ঠান৻