স্নোডেন জনসমক্ষে, রাশিয়ার সমালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র

বিমানবন্দরে মি. স্নোডেন ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
Image caption বিমানবন্দরে মি. স্নোডেন ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

তিন সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষক এডওয়ার্ড স্নোডেন জনসমক্ষে এসেছেন।

মস্কোর বিমানবন্দরে মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীদের সাথে তিনি বৈঠকও করেছেন।

তিনি বলেছেন ল্যাটিন আমেরিকায় যেতে না পারায় তিনি রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন।

ওদিকে রাশিয়া এই পলাতক মার্কিন নাগরিককে প্রচারণা চালানোর সুযোগ এবং রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে দাবী করে আমেরিকা রাশিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে।

ওয়াশিংটন বলছে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে আলাপ করতে যাচ্ছেন।

একজন মার্কিন মুখপাত্র বলেছেন মি. স্নোডেন কোন মানবাধিকার কর্মী নন এবং গোপনীয় তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।

এর আগে মি. স্নোডেন মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে বলেছেন ল্যাটিন আমেরিকায় গিয়ে আশ্রয় না পাওয়া পর্যন্ত তিনি রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন।

তিন সপ্তাহ আগে হংকং থেকে আসার পর থেকে তিনি মস্কো বিমানবন্দরের ট্রানজিট জোনে অবস্থান করছেন।

ওদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন তারা মি স্নোডেনের কাছ থেকে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাননি।

পেসকভ বলেন রাশিয়ায় থাকতে হলে মি স্নোডেনকে অবশ্যই শর্ত মানতে হবে আর তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের কোন ক্ষতি করা যাবেনা।

রাশিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান সারগেই নিকিটিন মি. স্নোডেনের সাথে আলাপের পর বলছেন রাশিয়ার কর্মকর্তাদের আচার আচরণে তার মনে হয়েছে দেশটি মি স্নোডেনকে আশ্রয় দেবে।

তিনি বলেন, ‘মস্কোতে আমাদের কার্যালয়ে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের একটি টেলিফোন পাই এবং তারা আমাদের সেখানে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদগ্রীব ছিল। সচরাচর তারা এমনটা করেন না। তাই আমার মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটতে পারে।‌’

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রতি আমেরিকা বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র রাশিয়ার সমালোচনা করে বলেছেন রাশিয়া মি স্নোডেনকে তাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

তাছাড়া রাশিয়া তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার অনুরোধ করার সুযোগ করে দিয়েছে, ফলে রাশিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে ঐ মুখপাত্র দাবী করেন।