যুদ্ধাপরাধের রায়ে এবার সহিংসতার মাত্রা কম কেন

  • ১৭ জুলাই ২০১৩

একই সপ্তাহে পর পর জামায়াতে ইসলামীর দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সাজা পাওয়ার পরও এবার এর বিরুদ্ধে সেরকম ব্যাপক সহিংসতা দেখা যায়নি যেটি ঘটেছিল কয়েক মাস আগে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে গত সোমবার জামায়াতের এক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং সাবেক আমীর গোলাম আযমকে ৯০ বছরের সাজা দেয়া ট্রাইব্যুনাল। দুদিন পর বুধবার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে ফাঁসির দন্ড ঘোষণা করা হয়।

গোলাম আযমের রায় ঘোষণার দিন থেকেই বাংলাদেশে হরতাল পালন করে চলেছে জামায়াতে ইসলামী। গত মঙ্গলবার হরতালের সময় সাত্ক্ষীরায় পুলিশের সঙ্গে দলের কর্মীদের দুজন নিহত হয়। কিন্তু এছাড়া গত কয়েকদিনে জামায়াত কর্মীদের সেরকম ব্যাপক বিক্ষোভ যেমন চোখে পড়েনি।

এ বছরের মার্চের শুরুতে মানবতা বিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতার দেলাওয়ার হোসাইন সাইদিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। তারপরই ব্যাপক সহিংসতা আর লাগাতার হরতালের মধ্যে দিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী তখন সংঘাতে ৩৭ জন নিহত হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী অবশ্য দাবি করেছিল নিহতের সংখ্যা ৭৫ জনের মতো।

এবারও একই মাত্রার সহিংসতার আশংকায় সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী সেভাবেই প্রস্তুত ছিল।

কিন্তু এবার সহিংসতার ঘটনা ছিল আশ্চর্যজনকভাবে অনেক কম। নিরাপত্তা বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি বা রমজান মাসের কারণেই কি এবার সহিংসতা কম হয়েছে? নাকি জামায়াতের সাংগঠনিক দুর্বলতাই এর কারণ?

জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের একজন কর্মী বলেন, “এই রায়ের ঘোষণার কথা ছিল আরও আগে। কিন্তু সরকার কৌশলগত সুবিধার জন্যে রমজান মাসকে বেছে নেবার কারণে প্রতিক্রিয়া ভিন্নরকম হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ছাত্র শিবিরের কর্মীদের সবাই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র। একইভাবে সরকার কৌশল করে সময়মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছুটি দিয়ে দেয়াতে হয়ত সংগঠিত হতে একটু সমস্যা হয়েছে।”

পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু তালেব মণ্ডল বলছেন, ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে দেলাওয়ার হোসেন সাইদির অনেক জনপ্রিয়তা ও জনসাধারণের কাছে তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার কারণে তখন প্রতিক্রিয়া বেশি ছিল।