হরতালের বিরূপ প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্যে

bd hartal

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা পর পর চারদিনের দেশব্যাপী হরতাল আজ শেষ হয়েছে।

দলটির সাবেক আমীর গোলাম আযম এবং বর্তমান সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মো: মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায়ের প্রতিবাদে তারা এই হরতাল কর্মসূচি নিয়েছিল।

এ ধরণের কর্মসূচির বড় প্রভাব পড়ে সড়ক পরিবহনের উপর এবং তাই হয়েছে। মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন পুরো সপ্তাহজুড়েই স্থবির হয়ে পড়েছিল, ঈদের আগে রোজার সময় হরতালের মতো কর্মসূচিতে মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তির শেষ ছিল না, এমনটাই বলছেন লোকজন।

কথা হচ্ছিল উত্তরাঞ্চলীয় বিভাগীয় শহর রংপুরে একটি কলেজের ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে। তিনি মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে পাশের জেলা নীলফামারীতে তাঁর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন দু’দিন ধরে। হরতালের কারণে সড়কপথে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় শেষ পর্যন্ত ট্রেন ধরার আশায় রেলষ্টেশনে চলে যান মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলছিলেন, সেখানে তাকে অপেক্ষা করতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। ট্রেনের সময়ের কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। আদৌ ট্রেন মিলবে কিনা, তারও নিশ্চয়তা নেই।

মোস্তাফিজুর রহমান একা নন, রংপুর রেলষ্টেশনেই ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন আরও অনেকে - যারা অন্য উপজেলায় বা আশেপাশের জেলা থেকে বিভিন্ন কাজে এসে ফিরে যাওয়ার ভোগান্তিতে পড়েছেন।

পর পর চারদিনের হরতালের একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও।

দক্ষিণ-পশ্চিমে খুলনায় চাল-ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মুনির আহমেদ বললেন, পণ্য আনা নেওয়া বন্ধ রেখে তারা হাত গুটিয়ে বসেছিলেন গত কয়েকদিন। তিনি বলছিলেন, "রোজার সময় যখন পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। তখন যানবাহনের অভাবে চাল-ডালের মতো ভারি পণ্য আনতে পারছি না। একইসাথে আমাদের কাছে থাকা চাল-ডাল বা পণ্য কেনারও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ যানবাহনের অভাবে আমাদের ক্রেতারাও আসতে পারে না।"

দেশের সব চেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করেন মোহাম্মদ ওসমান। সড়ক বন্ধ হলেই তাঁর পণ্য পরিবহনে বাড়তি টাকা গুণতে হয়। যে কারণে পণ্যের দামও বেড়ে য্য়।

যদিও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ভেতরে হরতালের সময় কিছু যানবাহন চলাচল করে, কিন্তু শহরের বাইরে দেখা যায় অন্য চিত্র।

জেলার সাথে উপজেলা বা ঢাকার সাথে অন্য সব জেলার অর্থ্যাৎ দূরপাল্লার কোন যানবাহনই হরতালের সময় চলাচল করে না। মহাসড়কে আকস্মিক হামলা বা ভাঙচুরের মতো সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে, এমন আতংক কাজ করে পরিবহন মালিকদের মধ্যে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের আন্ত:জেলা পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিলউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, হরতাল মতো কর্মসূচি এলে তাদেরকে এক অসহায় পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

তিনি বলেছেন, গত কিছুদিনে অর্থনৈতিকভাবে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা পুষিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন।