কায়রোতে ব্যাপক সংঘর্ষে একশোর বেশি নিহত

মিশরের রাজধানী কায়রোতে ক্ষমতাচ্যূত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসির সমর্থক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।

মোহাম্মদ মোরসির সমর্থকরা দাবি করছেন নিহতের সংখ্যা একশোরও বেশি।

তবে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করছে নিহতের সংখ্যা বিশ।

কায়রোতে কিভাবে এই সংঘাত শুরু হয় তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে মুসলিম ব্রাদারহুড অভিযোগ করছে সামরিক বাহিনী হত্যার উদ্দেশ্যে জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকদের রাস্তা ছাড়ার নির্দেশ দেয়ার কয়েক ঘন্টা পর নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সরিয়ে দিতে অভিযান শুরু করে।

পাল্টাপাল্টি সমাবেশ

কায়রোতে এরকম একটা রক্তাক্ত সংঘাতের আশংকা করা হচ্ছিল গত কদিন ধরেই।

মুসলিম ব্রাদ্রারহুড, এবং মিশরের সেনাবাহিনী—দুপক্ষই গতকাল তাদের হাজার হাজার সমর্থককে মাঠে তাদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা চালায়।

রাস্তায় সেনাবাহিনী সহ নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। কিন্তু তারপরও সংঘাত থামানো যায়নি।

মধ্যরাতের পরই ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়। মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন মুখপাত্র জেহাদ আল হাদাদ জানান, কায়রোর পূর্ব অংশে, যেখানে একটি মসজিদকে ঘিরে তাদের সমর্থকরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন, নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে হামলা চালায়।

তিনি জানান, ভোর রাতে তিনটার দিকে পুলিশ প্রথমে টিয়ারগ্যাস এবং এরপর গুলি চালাতে শুরু করে। তিনি বলেন, কেবল রাবা আল আদাউইয়া মসজিদ থেকেই ৩৮ টি মৃতদেহ নেয়া হয়েছে।

রাবা আল আদাউইয়া মসজিদের পাশে একটি ফিল্ড হাসপাতালে শত শত গুলিবিদ্ধ মানুষের চিকিৎসা করা হয়। গুলিতে বেশিরভাগ মানুষ নিহত হয়েছেন এখানেই।

মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকরা বলছেন, বিভিন্ন ভবনের ছাদে লুকিয়ে থাকা বন্দুকধারীরা তাদের ওপর সরাসরি গুলি চালায়। ফিল্ড হাসপাতালের একজন ডাক্তার বলেন, আঘাতের চিহ্ণ দেখে বোঝা যায়, হত্যা করার জন্যই তাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

গত তেসরা জুলাই মিশরের সেনাবাহিনী মোহাম্মদ মোরসিকে ক্ষমতাচ্যূত করার পর এটাই এযাবতকালের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা। মোহাম্মদ মোরসির সমর্থক রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই হত্যাকান্ডের জন্য মিশরের সেনাপ্রধান জেনারেল সিসিকে দায়ী করেছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী উইলিয়াম হেগ মিশরের এই হত্যাকান্ডের নিন্দা করেছেন।

তিনি বলেছেন, মিশরের মানুষের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী তাদের বিচার করতে হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাশটন মিশরের সহিংসতার নিন্দা করে সবাইকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য