রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ

  • ৩ অগাস্ট ২০১৩
savar tragedy
Image caption রানা প্লাজা ধস বাংলাদেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম শিল্প দুর্ঘটনা

সাভারের রানা প্লাজা ধস, যেটিকে বলা হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম শিল্প দুর্ঘটনা, তাতে আহত নিহত এবং নিখোঁজ মিলে প্রায় চার হাজার পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্ঘটনার পরপরই ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে এসেছেন অনেক মানুষ। সেরকমই কিছু মানুষের আর্থিক সহযোগিতাকে একত্রিত করে, রানা প্লাজার বিভিন্ন কারখানায় কাজ করতেন এমন কয়েকজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে গড়ে উঠেছে একটি নতুন উদ্যোগ ‘অপরাজেয়’।

সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজের একটু আগে মূল সড়কের উল্টোপাশে রানা প্লাজা গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়। এর লাগোয়া বড় একটি ঘরে সাতটি সেলাই মেশিন নিয়ে অপরাজেয় নামে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা সকাল থেকে কাজ শুরু করেছেন। তৈরি করছেন বিভিন্ন আকার এবং নকশার পাটের ও কাপড়ের শপিং ব্যাগ এবং শৌখিন ব্যবহারের পাটের ব্যাগ ।

এখানকার কর্মীরা সকলেই রানা প্লাজার বিভিন্ন কারখানায় কাজ করতেন, এবং দুর্ঘটনায় কমবেশি আহত হয়েছেন। সবাই এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন, তবে জীবনের বাস্তবতা অনুযায়ী কাজ দরকার সকলেরই।

এখানেই কাজ করেন নীলুফা ইয়াসমিন। সুইং অপারেটরের কাজ করতেন রানা প্লাজার আট তলায় নিউ ওয়েভ স্টাইল কারখানায়। দুর্ঘটনায় পিঠে, বুকে এবং মেরুদন্ডে আঘাত পান। চিকিৎসকেরা তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিলেও দু্ই সন্তানের মা নীলুফা বলছেন, সংসারের খরচ জোগানোর জন্য তিনি কাজ খুঁজছিলেন।

Image caption জীবনের বাস্তবতা অনুযায়ী কাজ দরকার সব শ্রমিকেরই

এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা মুক্ত তারুণ্য নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, সদস্যদের বেশিরভাগই সাভার এবং ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন, অথবা সদ্য পড়াশোনা শেষ করেছেন।

উদ্যোক্তারা বলছেন দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তা করার জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে আসা মানুষদের স্বেচ্ছায় দেওয়া অর্থ সাহায্য দিয়েই শুরু করা হয়েছে এই প্রতিষ্ঠান।

মুক্ত তারুণ্যের অন্যতম সদস্য খায়রুল মামুন মিন্টু জানান, প্রতিষ্ঠানটি এর কর্মীরাই পরিচালনা করেন। তবে প্রাথমিকভাবে ঢাকার বিভিন্ন শপিং মল থেকে অর্ডার সংগ্রহ করা এবং পৌঁছে দেয়ার কাজটি করছেন মুক্ত তারুণ্যের সদস্যরাই। আর মুনাফা হলে তার পুরোটাই পাবেন এর কর্মীরা।

এখানেই সুইং অপারেটরের কাজ করছেন মো. আকাশ শেখ। কাজ করতেন রানা প্লাজার চারতলায় ফ্যান্টম এ্যপারেলস-এ। তিনি বলছিলেন উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনায় তিনি এবং এখানকার অন্যান্য কর্মীরা খুবই খুশি।

এখানকার কর্মীরা সকাল আটটা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত কাজ ক'রে দৈনিক প্রায় ৪৫০টি ব্যাগ তৈরি করতে পারেন। তবে, উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন ঢাকার বড় বড় সব শপিং মল থেকে তারা যে পরিমাণ অর্ডার পাচ্ছেন প্রতিদিন তা সরবরাহ করার সামর্থ্য এখনও তাদের নেই।

তবে, শীঘ্রই তাদের 'অপরাজেয়'কে আরো বড় করার পরিকলাপনা রয়েছে, হয়তো তখন সেটা সম্ভব হবে।

রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের একটি ছোট অংশের জন্য হলেও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়েছে, উদ্যোক্তাদের জন্য সেটাই বড় প্রাপ্তি হবে বলে জানাচ্ছেন মুক্ত তারুণ্যের খায়রুল মামুন মিন্টু।