‘বাংলাদেশে সৌদি আরবের হস্তক্ষেপ করা উচিত’, বললেন পাকিস্তান জামায়াতের আমির

  • ৩ অগাস্ট ২০১৩
সৈয়দ মুনাওয়ার হাসান
Image caption দলীয় সমাবেশে সৈয়দ মুনাওয়ার হাসান

পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামী দলের প্রধান সৈয়দ মুনাওয়ার হাসান বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনকে অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের আদেশের তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর উচিত বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা।

একই সাথে মি: হাসান যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের বিচারের সমালোচনা করে বলেন, এগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়।

তাঁর মতে, যে কোন মুসলিম দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার অন্যান্য মুসলিম দেশের আছে।

সৈয়দ মুনাওয়ার হোসেনের মতে বাংলাদেশ সরকার তার জনপ্রিয়তা হারিয়েছে, এবং সে’কারণে তারা জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করতে চায়।

তিনি বলেন, জামায়াতকে সাহায্য করার জন্য অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর এগিয়ে আসা উচিত। তিনি অর্থনৈতিক চাপের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এখানে অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে কিছু নেই।

‘’বিশেষ করে সৌদি আরব এবং তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে,’’ মি: হাসান বিবিসি বাংলাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন।

‘’আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী কাজ করছে, এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের ভাল-মন্দও দেখবে। তাই মুসলিম দেশগুলো বাংলাদেশে এভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে’’।

Image caption বাংলাদেশ জামায়াতের প্রাক্তন আমির গোলাম আযম

‘’মুসলিম ভাইরা সব কিছুই করতে পারবে। বাংলাদেশ যেহেতু একটি মুসলিম রাষ্ট্র, তাই অন্যান্য মুসলিম দেশগুলো সব কিছুই করতে পারে,’’ মি: হাসান বলেন।

তবে বাংলাদেশে শুধু জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ করে হাইকোর্টের আদেশই নয়, পাকিস্তান জামায়াত প্রধান মনে করেন চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াটা প্রশ্নবিদ্ধ এবং সেটা শুরু করাই উচিত ছিল না।

তিনি দাবি করেন সত্তর দশকের শুরুর দিকে, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার প্রধান, অর্থাৎ শেখ মুজিবুর রহমান এবং জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিলো।

‘’চুক্তিতে বলা হয়েছিলো, কোন যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে না, বা কোথাও কোন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে না,’’ মি: হাসান বলেন।

কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন, যে পাকিস্তান সরকার এখনো কোন উচ্চ-বাচ্য করছে না, তারা বাংলাদেশ সরকারকে এই চুক্তি সম্পর্কে মনে করিয়ে দিচ্ছে না।

পাকিস্তান সরকারের এই ভূমিকা নিয়ে প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে সৈয়দ মুনাওয়ার হাসান বলেন, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের জন্যই লড়াই করেছিল, কিন্তু এখন ইসলামাবাদ সরকারের নীরব ভূমিকায় জনগণ ক্ষুব্ধ।

‘’পাকিস্তানের জনগণ এটা নিয়ে মোটেই খুশি না। যখন যুদ্ধ চলছিল, ঐ দেশ বাংলাদেশ ছিল না, পূর্ব পাকিস্তান ছিল।

''কাজেই যারা পাকিস্তানের পক্ষে লড়াই করছিল, তারা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী সঠিক কাজই করছিল,’’ মি: হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেন।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম আযম এবং তাঁর সহকর্মীরা পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন দিয়েছিলেন, যেটাকে মি: হাসান সঠিক নীতি বলেই গণ্য করেন, কারণ তখন সেটা পাকিস্তানই ছিল।

‘’দেশটা বাংলাদেশ ছিল না, সেটা পূর্ব পাকিস্তান ছিল। তারা যা করেছে, নিজেদের জীবন দিয়েছে, সেটা পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার জন্যই করেছে,’’ মি: হাসান বলেন।

সৈয়দ মুনাওয়ার হাসানের মতে, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সমর্থনে পাকিস্তান সরকার এবং সেনাবাহিনীর সবার আগে এগিয়ে আসা উচিত ছিল।

জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমির মনে করেন বাংলাদেশে জনমত যুদ্ধাপরাধ বিচারের বিপক্ষে চলে গেছে। তবে তাঁর মতে, ১৯৭১ সালে সংঘটিত কোন অপরাধের বিচার করার অধিকার বাংলাদেশ সরকারের নেই।

মি: হাসানের মতে, ১৯৭১ সালে যদি কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েও থাকে, সেগুলো বাংলাদেশের মাটিতে সংঘটিত হয়নি, হয়েছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মাটিতে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীও একই কাজ করছিল এবং পূর্ব পাকিস্তান তখন তাদের নিজের দেশ ছিল।

‘’এই ঐতিহাসিক তথ্যগুলো ভুলে যাচ্ছেন কেন?’’ তিনি জানতে চান।