মিশরের সংকট সমাধানে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র আর ইইউ

  • ৪ অগাস্ট ২০১৩
Image caption মিশরের কায়রোয় বিক্ষোভ চলছে

মিশরের সেনাবাহিনী সেদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার একমাস পরে আমেরিকা আর ইউরোপের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা অন্তর্বর্তী সরকার আর মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতাদের সাথে আলোচনা শুরু করেছেন। তারা চেষ্টা করছেন যাতে এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম বার্নস মোহাম্মদ মোরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুডের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে আলোচনার পরপরই মিশরের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আদলি মানসুর আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাবিল ফাহমির সাথেও বৈঠক করেছেন।

এ সময় তার সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষ দূত বের্নার্দিনো লিও ছিলেন।

ওই বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানা না গেলেও, মিশরে আশাবাদ তৈরি হয়েছে যে, এই আলোচনা সেখানে সংঘাত বন্ধে সহায়তা করবে।

মিশরে এই আলোচনা এমন সময়ে শুরু হলো, যখন মোহাম্মদ মোরসির সমর্থকদের কায়রোয় অবস্থান কর্মসূচী নিয়ে সেখানে উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাবিল ফাহমি বলেছেন, পরিস্থিতি গুরুতর না হলে তারা বিক্ষোভকারীদের উপর শক্তি প্রয়োগ করবেন না।

মি. ফাহমি বলছেন, সরকার আর মুসলিম ব্রাদারহুডের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে সবসময়েই যোগাযোগ রয়েছে। এটা এখন সবাই বুঝতে পারছে যে ঠিক কি করতে হবে আর মিশরের সবাই তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাইছে। কারণ এই নিরাপত্তাহীনতা দীর্ঘ সময় চলতে পারেনা।

তবে বিক্ষোভে তাদের শক্তি প্রয়োগের কোন ইচ্ছা নেই, যদি না পরিস্থিতি আসলেই ততটা গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়।

এই আলোচনা এমন সময় শুরু হলো, যখন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যরা কায়রোয় বড় ধরণের দুটি অবস্থান কর্মসূচী আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন।

সমর্থকরা দাবি করছেন যেন মি. মোরসিকে পুনরায় দায়িত্বে বহাল করা হয়। এই দাবিতে গত একসপ্তাহ ধরেই তারা মিশরে বিক্ষোভ করছেন।

কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তাদের এই কর্মসূচী ত্যাগ করার আহবান জানিয়ে বলছে, তাদের উচিত রাজনৈতিকভাবে বিষয়টির সমাধান করা।

এদিকে যেকোনো অবস্থান কর্মসূচী ঠেকাতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়ায় আবারো সংঘাতের আশংকা তৈরি হয়েছে।

গত ৩ জুলাই মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিশরের সেনাবাহিনী। এরপর থেকে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একশজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।