সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার জেরে কাশ্মীরে কারফিউ

kashmir tension
Image caption কিশতাওয়ার শহরে দ্বিতীয় দিনের মত কারফিউ চলছে

ভারত প্রশাসিত কাশ্মীরের কিশতাওয়ার শহরে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে শুক্রবারের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা বাহিনী কারফিউ সম্পর্কে মানুষজনকে সাবধান করতে গুলি ছুঁড়েছে।

ক্রুদ্ধ জনতা কারফিউ ভাঙ্গার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সতর্ক করতে গুলি ছোঁড়ে।

কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের প্রায় দু'শ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে কিশতাওয়ার শহরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শুক্রবারের দাঙ্গায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো বিশজনের বেশি।

খবরে জানা গেছে শুক্রবার ঈদের নামাজের পর এলাকার মুসলমান সম্প্রদায়ের কয়েকশ মানুষ তাদের স্বাধীনতার পক্ষে ভারত-বিরোধী স্লোগান দিলে হিন্দুরা তার প্রতিবাদ জানায়। এর থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

দুই সম্প্রদায়ের মানুষ আগ্নেয়াস্ত্র, ইঁটপাটকেল এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় খন্ডযুদ্ধ চালায়।

সহিংসতার জেরে কিশতাওয়ার শহরের বেশ কিছু দোকানপাট, পেট্রল স্টেশন এবং দুটি হোটেলে ক্রুদ্ধ জনতা আগুন ধরিয়ে দেয়।

Image caption কিশতাওয়ারের পথে শুক্রবারের খন্ডযুদ্ধে আহতের সংখ্যা বিশের ওপর

কয়েক ঘন্টা ধরে সহিংসতা চলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর কয়েকশ সেনাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়।

রাজ্য পুলিশের মহাসচিব অশোক প্রসাদকে উদ্ধৃত করে একটি বার্তা সংস্থার খবরে বলা হচ্ছে শহরে এখনও উত্তেজনা রয়েছে।

তিনি বলেছেন উত্তেজিত ও ক্রুদ্ধ মানুষকে কারফিউ সম্পর্কে সাবধান করতে এবং তাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্কতামূলক গুলি ছুঁড়েছে।

তিনি বলেছেন কর্তৃপক্ষ কড়াহাতে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তৈরি আছে এবং তারা দুষ্কৃতিকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে শহরে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাঙ্গার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

এই সহিংসতার প্রতিবাদে কট্টর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ডাকে শ্রীনগরে আজ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। দোকানপাট ও ব্যবসাবাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।

রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকেও জম্মুতে আজ হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে।

কাশ্মীরে ভারত বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠিগুলো স্বাধীনতার দাবিতে ১৯৮৯ সাল থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।