বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী হত্যার বিচার শুরু করেছে বিএসএফ

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পেরনোর সময়ে বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী খাতুনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের বিচার আজ শুরু হয়েছে ৻

Image caption কাটাতাঁরের বেড়ায় ঝুলছে ফেলানী খাতুন

পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার শহরের কাছে সোনারি বিএসএফ ছাউনীতে এই বিচারের জন্য সেনা কোর্ট মার্শালের সমতূল্য জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্ট বা জিএসএফসি শুরু হয়েছে৻

ফেলানি খাতুন ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে মারা যান।

দীর্ঘক্ষন তাঁর দেহ কাঁটাতারের বেড়াতেই ঝুলে ছিল আর দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল৻

বিএসএফ-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল এগারোটা নাগাদ কোচবিহার শহরের কাছে সোনারীতে বিএসএফের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের যে ছাউনী রয়েছে, সেখানেই কাজ শুরু করে বি এসএফের ওই নিজস্ব আদালত৻

মোট ৫জন বিচারক গোটা প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন আর বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন বিএসএফের গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ারের ডি আই জি (কমিউনিকেশনস) সি পি ত্রিবেদী৻

প্রথমদিনে মূলত নথিপত্র পেশ প্রভৃতি কাজ হয়েছে আর অভিযুক্ত কনস্টেবল অমিয় ঘোষকে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি পড়ে শোনানো হয়েছে৻

মি. ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০৪ ধারা (অনিচ্ছাকৃত খুন) এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে৻

Image caption সীমান্তে টহলরত বিএসএফ

বিএসএফের এক উচ্চপদস্থ অফিসার বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বিচারের শুরুতেই অভিযুক্ত কনস্টেবল অমিয় ঘোষকে বিচারকরা জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি দোষ স্বীকার করছেন কী না, যেটাকে আইনী পরিভাষায় বলা হয় ‘গিল্টী প্লিড’ করছেন কী না৻ কিন্তু মি. ঘোষ দোষ স্বীকার করেন নি। আদালতকে তিনি আইনী ভাষায় বলেছেন, ‘নট গিল্টি’৻”

এরপরে ধীরে ধীরে সাক্ষ্যপ্রমাণ নেওয়া হবে এবং সাক্ষীদের বয়ান রেকর্ড করা হবে৻

বি এস এফের সূত্রগুলো বলছে, তিনজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশী নাগরিকের সাক্ষ্য নেওয়া হবে, এবং তাঁরা আসবেন ১৮ তারিখ, সাক্ষ্য দেবেন ১৯ তারিখ৻

এঁদের মধ্যে একজন ফেলানীর বাবা সহ দুজন বেসামরিক নাগরিক, তাঁদের আইনজীবীও আসবেন৻ আর তৃতীয় ব্যক্তি বাংলাদেশে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি-র একজন লেফটেনান্ট কর্নেল ৻

যে ছাউনীতে বিচার চলছে, সেটাই ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর, ওই ব্যাটালিয়নেরই একজন সদস্য অভিযুক্ত, বিচারও হচ্ছে বিএসএফ আইনে৻ এই অবস্থায় এই বিচারে কতটা নির্ভয়ে বয়ান রেকর্ড করতে পারবেন সাক্ষীরা? বিচারের স্বচ্ছতাই বা কতটা থাকবে?

বিএসএফের উচ্চপদস্থ অফিসাররা ফেলানী খাতুন সহ অন্য কোনও ঘটনায় বিএসএফ কর্মীদের শাস্তিদানের প্রসঙ্গে সবসময়েই বলেন যে বিএসএফের আইন অনেক ক্ষেত্রে ভারতীয় দন্ডবিধির থেকেও কড়া, আর সেই আইনে যেসব শাস্তি বিধানের কথা রয়েছে, সেগুলোও সাধারন আদালতের থেকে অনেক ক্ষেত্রেই কঠোর৻

শাস্তি দানের প্রক্রিয়াও অনেক দ্রুত আর শাস্তির হারও বেশী৻ অনেক কর্মীই বিএসএফের নিজস্ব জেলে বন্দী থাকেন, আবার সাধারন কারাগারেও বন্দী রাখা হয়৻

প্রায় আড়াই বছর পরে কেন ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হল, তা নিয়ে বিএসএফের বক্তব্য, কিছুটা দেরী তাঁদের দিক থেকে হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া অর্থাৎ এই জিএস এফসি তৈরীর নির্দেশ দিতে দিতে ২০১২-র অক্টোবর মাস হয়ে গেছে৻ কিন্তু তারপরে প্রায় দশ মাস লেগে গেছে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতার জন্য৻

মামলার বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় তিনজন বাংলাদেশী সাক্ষীকে হাজির করানো যায়নি বলেই গত অক্টোবর মাসে নির্দেশ জারি হওয়া স্বত্ত্বেও এতদিনে বিচার শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে বিএসএফ৻

বিএসএফ কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তাঁরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে বারে বারে জানিয়েছেন। অন্যদিকে ভারতের বিদেশ দপ্তরের মাধ্যমেও বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছিল৻

বাংলাদেশ একটি চিঠি দিয়ে ওই সাক্ষীদের কী জিজ্ঞাসা করা হবে সেটা জানতে চেয়েছিল৻ কিন্তু বিচারের সময়ে কী প্রশ্ন করা হতে পারে সেটা আগে থেকে জানানো সম্ভব নয় বলে বিএসএফ জানিয়েছিল৻

ওই তিনজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে হাজির করানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই সরকারের মধ্যে চিঠি আদানপ্রদান চলেছে৻ সেজন্যই এই বিলম্ব৻