কায়রোর মসজিদ পুলিশ নিয়ন্ত্রণে, ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব

  • ১৭ অগাস্ট ২০১৩
Image caption কায়রোর ফাতেহ মসজিদের বাইরে পুলিশের সাঁজোয়া গাড়ি।

মিশরের রাজধানীর যে মসজিদে মুসলিম ব্রাদারহুড কর্মীরা শুক্রবার থেকে অবস্থান নিয়েছিল, গোলাগুলির পর তার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

কায়রোর কেন্দ্রে আল ফাতাহ মসজিদে অবস্থানকারীদের সবাইকে আটক করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদে ঢোকার আগে সেখানে প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী মসিজদটির প্রধান মিনার লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে।

তবে সরকার বলছে, মিনারের ওপর থেকে পুলিশের দিকে গুলি করা হলে তার জবাব দেয়া হয়।

মসজিদের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে দিনভর মোরসি বিরোধী বহু লোকজনকে মুসলিম ব্রদারহুডের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা যায়।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ শুরু হলে নারী পুরুষ সহ এক হাজারেও বেশি মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থক ঐ মসজিদের ভেতর আশ্রয় নেয়।

পুলিশ ও সৈন্যদের হুঁশিয়ারিতে অনেকে মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেলেও, একশরও বেশি লোক কোনোভাবেই বেরুতে রাজী হচ্ছিল না।

বিবিসির আরবি বিভাগ ফতেহ মসজিদের ভেতরে অন্তত দুজনের সাথে কথা বলতে পেরেছে। তারা জানিয়েছেন, মানুষজন প্রাণের ভয়ে রেরুতে ভয় পাচ্ছে।

ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব

মিশরের সেনা-সমর্থিত অস্থায়ী সরকারের একজন মুখপাত্র শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন মুসলিম ব্রাদারহুডের ক্ষমতায় ফেরা কোনভাবেই আর সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুডকে বরঞ্চ নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী হাাজেম বিলাউয়ি বলেন, সরকার আপোষ মীমাংসার পথে যাবার কথা ভাবছিল, "কিন্তু যাদের হাতে রক্ত তাদের সাথে আর কোন আপোষ নয়"।

"যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে, আইন ভঙ্গ করে তাদের সাথে কোন আপোষ নয়।"

নিহতের সংখ্যা বেড়েছে

মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে শুক্রবার নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা সরকারী হিসাবেই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৩।

আহতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়ে গেছে।

মুসলিম ব্রাদারহুড তাদের ফেসবুক পাতায় জানিয়েছে সংগঠনের আধ্যাত্মিক নেতা জেনারেল মোহাম্মদ বাদির ছেলে আম্মার বাদি মারা গেছেন।

শুক্রবার কায়রোর রামসেস স্কোয়ারে গুলিতে মারা যান ৩৮ বছর বয়সী আম্মার বাদি।

প্রেসিডেন্ট মোরসির ক্ষমতাচ্যুতির পরপরই সহিংসতায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Image caption কায়রোর রামসেস স্কয়ারে রক্তাক্ত এক মহিলা

রক্তাক্ত ক্ষোভ দিবস

মুসলিম ব্রাদারহুড দলের ডাকা শুক্রবারের ‘ক্ষোভ দিবসে’ সহিংসতার কেন্দ্র ছিল কায়রোর কেন্দ্রস্থলে রামসেস স্কয়ার।

কায়রোর বাইরে আলেকজান্দ্রিয়া, ইসমাইলিয়া, দামিয়েত্তা সহ অন্যান্য শহরেও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে ।

আলেকজান্দ্রিয়ায় মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন সমর্থক বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানকে হোসনি মোবারকের সময়কালের সাথে তুলনা করে বলেন,

“দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী হুসনি মোবারকের সময়কালে যে আচরণ করেছিল এখন ঠিক তেমনটাই করছে। তারা চার্চে আগুন লাগাচ্ছে আর দোষারোপ করছে ব্রাদারহুডকে। যদি ব্রাদারহুডের কাছে অস্ত্র থাকতো তাহলে হয়তো আরো বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটতো।“

সেনা অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিনই বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুড।

সৌদি বাদশাহর সমর্থন

এদিকে মিশরের সেনাবাহিনীর নেতৃত্বকে সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহ।

মিশরকে ধ্বংসের বিরুদ্ধে দাড়াতে তিনি আরব দেশের নেতাদের এগিয়ে আসারও আহবান জানিয়েছেন। অপরদিকে নিহতদের স্মরণে জেরুজালেমে বিক্ষোভ করেছে হামাস।

প্রেসিডেন্ট মোরসির বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপের পেছনে যে সংগঠনের ব্যাপক গণসমাবেশ সব চেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বলে বলা হয়, সেই তামারদ সংগঠন ব্রাদারহুডের বিপক্ষে গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে।

একই সাথে, সারা দেশে জনগণকে মহল্লায় মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে, বিশেষ করে খ্রিষ্টানদের গির্জা রক্ষা করার জন্য।

গত কয়েক দিনে মিশরের বিভিন্ন জায়গায় দেশের কপটিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এইসব হামলার পেছনে রয়েছে ইসলামপন্থীরা, যারা কপটিক খ্রিষ্টানদের সামরিক অভ্যুত্থান সমর্থন করার জন্য দায়ী করে।

মিশরের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বলছে, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার ২৫টি গির্জা এবং খ্রিষ্টানদের মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর এবং ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়।

জুলাই মাসের ৩ তারিখ থেকে প্রেসিডেন্ট মোরসির পুনর্বহাল দাবী করে মুসলিম ব্রাদারহুড এবং তার মিত্র সংগঠনগুলো কায়রো দু’টি জায়গায় বিশাল অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে আসছিলো।

কিন্তু বুধবার রাবা আল-আদাউইয়া মসজিদের সামনে এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নেহাদা স্কয়ারে অবস্থিত সমাবেশগুলো ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করে।

মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতে, বুধবারের সংঘর্ষে সারা দেশে অন্ততপক্ষে ৬৩৮জন মারা গেছেন।