সংবিধান থেকে একচুলও নড়বো না: শেখ হাসিনা

  • ১৮ অগাস্ট ২০১৩
hasina
Image caption বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন বর্তমান সংবিধান মোতাবেকই হবে এবং এথেকে এক চুলও ব্যত্যয় ঘটবে না বলে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

"জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। সংবিধান সংশোধন করেছি। যা হবে সংবিধান মোতাবেক হবে। তা থেকে একচুলও নড়া হবে না, ব্যাস।"

"যথাসময়ে সংবিধান মোতাবেক বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।"

বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের যে দাবি রোববার ঢাকায় হঠাৎ ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে তা পুরোপুরি নাকচ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা।

এমন সময় শেখ হাসিনা এই বক্তব্য দিলেন যখন বাংলাদেশে নতুন একটি জাতীয় নির্বাচনের খুব বেশী বাকী নেই এবং বিরোধী দল তাদের দাবীর পক্ষে নতুন আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার আগে শেখ হাসিনা পৌনে এক ঘণ্টারও বেশী সময় ধরে একটি বক্তব্য দেন যার পুরোটা জুড়েই ছিল তার সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা।

এই সংবিধান মেনে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের পর এই প্রথম একিটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেটি হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই।

উচ্চ আদালতের একটি রায়ের পর বাংলাদেশের সংবিধানে সর্বশেষ যে সংশোধনী আনা হয় সেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান বিলোপ করা হয়।

গোড়া থেকে বিষয়টিতে আপত্তি জানিয়ে আসছে বিরোধী দল বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী জোটের আন্দোলন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচীও পরিচালিত হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের ব্যবস্থা করে সংবিধান সংশোধনের দাবীকে কেন্দ্র করে।

সবশেষ গতকালই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার না আনা হলে এই সরকারের মেয়াদ শেষ হবার পর সাংবিধানিক শুন্যতা তৈরি হবে।

তবে সংবাদ সম্মেলনে সে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন শেখ হাসিনা।

"কোন সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হবে না। ওনারা যেটা চিন্তা করছেন, যা আশা করছেন সেটা ঠিক, এটা হবে না। আমি এটা বলতে পারি .... মিথ্যাচার আর কত। মিথ্যাচার করতে করতে তো আয়ু ক্ষয় হয়।"

এর আগে বিভিন্ন বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ও নির্বাচন-কালীন সরকার নিয়ে বিরোধী দলের সাথে সরকারী দলের আলোচনায় যাবার সম্ভাবনা তৈরি হলেও প্রধানমন্ত্রীর রোববারের বক্তব্যে কোনও ধরণের সমঝোতার ইঙ্গিত ছিল না।

শনিবার দলের উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা এবং দীর্ঘ ওই বৈঠকের পর শোনা যাচ্ছিল উপদেষ্টারা বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীকে অনড় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।