'বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় গেলে জঙ্গী রাষ্ট্র হবে'

  • ২১ অগাস্ট ২০১৩
21st August grenade attack
Image caption আওয়ামী লীগ সমাবেশে গ্রেনেড হামলা - ২১শে আগস্ট ২০০৪

বাংলাদেশে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পেছনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির প্রধান শেখ হাসিনা।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে, যেখানে চালানো এই হামলায় কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়, আজ বুধবার সেখানে এক সভায়, অল্পের জন্যে বেঁচে যাওয়া দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় গেলে, বাংলাদেশকে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

ইতিমধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ বিএনপি ও জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেনেড হামলার মামলায় অভিযুক্ত।

বিএনপি বলছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের নেতা তারেক রহমানসহ অন্যান্যদেরও এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শাসনামলে এই ঘটনার পর এর তদন্ত, জজ মিয়া নামের একজনকে আটকের ঘটনা সহ পুরো তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

শেষ পর্যন্ত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এসে ২০০৮ সালে নতুন তদন্ত করে এর বিচার শুরু হয়।

আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর তদন্তে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকে নতুন করে অভিযুক্ত করা হয়।

Image caption ২১শে আগস্টের স্মরণসভায় শেখ হাসিনা

কিন্তু মহাজোট সরকারের শাসনের শেষ বছরে এসেও বিচারের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।

এর মধ্যে আগামী নির্বাচন চলে আসছে। আওয়ামী লীগের দিক থেকে ২১ আগস্টের ঘটনাটিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি অন্যতম ইস্যু হিসেবে সামনে আনার চেষ্টা রয়েছে বলে দলটির নেতাদের অনেকেই বলছেন।

আজ বুধবার ২১ আগস্টের ঘটনায় নিহতদের স্মরণসভায় শেখ হাসিনার বক্তব্যেও মূলত রাজনৈতিক দিকটিই উঠে এসেছে।

''আজকের দিনের কথা স্মরণ করে দেশের মানুষকে একটি চিন্তা করতে হবে যে যারা এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে ক্ষমতায় বসে বিরোধী দলের ওপর হামলা করতে পারে তারা ক্ষমতায় গেলে দেশকে জঙ্গীবাদী সন্ত্রাসী দেশ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করবে, এই বাংলাদেশকে তারা ধ্বংস করে দেবে। কাজেই বিএনপি জামায়াত এবং তাদের সাথে জুটেছে হেফাজত - এদের সম্পর্কে দেশবাসীকে আজ সজাগ থাকতে হবে। যাতে কেউ আবার এমন হামলার ঘটনা না ঘটাতে পারে।''

কিন্তু বিরোধী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলছেন, ''মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমানকে নাজেহাল করতে এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।''

''দেশের মানুষ এটা বুঝবে এবং তারা সচেতন রয়েছে। একারণে কোন ষড়যন্ত্র হলেও এর কোন প্রভাব নির্বাচনী রাজনীতিতে পড়বে না, তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দূরে সরাতেই এমনটা করা হয়েছে।'' বলেন মিঃ মিয়া।

তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কারো বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে না।

বিএনপির ও এর জোটের কৃতকর্মই তাদের ওপর প্রভাব রাখবে। তাদের শাসনামলে জঙ্গীবাদের উত্থান হয়েছে, সারা দেশে বোমা হামলা হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক আচরণের ওপর নির্ভর করছে কী প্রভাব পড়বে। তারা অপরাধের পক্ষে দাঁড়ালে আর আমরা এর বিরুদ্ধে দাঁড়ালে দেশবাসীই দেখবে। যদি আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপাতে চায় তারা, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করবে দলটি।

অবশ্য বিএনপির নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন বিএনপি সব ধরনের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়ার বিষয়টিও সাধারণ মানুষ জানে বলে তিনি মন্তব্য করেন।