ভারতীয় রুপির দরপতনে বাংলাদেশের ওপর প্রভাব

Image caption ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা রুপির দাম পড়ছে তো পড়ছেই

ভারতে ডলারের বিপরীতে রুপির অব্যাহত মূল্য-পতনের ঘটনায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মহল এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দরপতনের ফলে আমদানি খাতে বাংলাদেশ লাভবান হবে।

ফলে এটি তাদের জন্য সুখবর হলেও, নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে রপ্তানি খাতে ।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রুপির এই দরপতনের ফলে ভারত কম খরচে গার্মেন্টস সামগ্রী রপ্তানি করতে পারবে, যার ফলে লোকসানের মুখে পড়বে বাংলাদেশের এই খাতটি।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বার্ষিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডস্ট্রিজ আইবিসিসিআইর ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রশান্ত দাস বলেন, এই দরপতনে আমদানি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এছাড়া যেসব দেশে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক বাজার রয়েছে সেখানেও বাংলাদেশ সুবিধা পাবে।

“ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। সেখানে আমদানি ব্যয় কমে যাবে। দ্বিতীয় আরেকটি ইতিবাচক দিক হচ্ছে, যেখানে ভারত বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় আছে যেমন অ্যাপারেল্স, নিটওয়্যার, চমড়া ইত্যাদি খাতে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে।”

বাংলাদেশের অনেক পণ্যই বিশেষ করে পেঁয়াজ, ভারি যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার, তেল ওষুধ, ওষুধ শিল্পের ৯০ শতাংশ কাঁচামাল আসে ভারত থেকে।

ব্যবসায়ী মি. দাস বলেন, রপ্তানিকারকদের জন্য এটা মোটেই সুখবর নয়। কারণ রপ্তানিতে এটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে ।

Image caption বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে ক্ষতির আশঙ্কা

তিনি বলেন, “নেতিবাচক দিক হচ্ছে এটা রপ্তানিকারকদের জন্য মোটেই সুখবর নয়। কারণ বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য ভারত আমদানি করে, যেমন ত্রিপুরা বা ওয়েস্টবেঙ্গল যে মাছ আমদানি করা হয়, তার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেখানে খরচ বেড়ে যাবে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা মোটেই স্বস্তি পাবে না।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয় তৈরি পোশাক, মাছ আর ভোজ্য তেল।

পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট শহীদুল্লাহ আজিম জানাচ্ছেন, “ভারতীয় মুদ্রার এই পতনের কারণে বাজার হারানোর আশঙ্কায় পড়েছে বাংলাদেশের পোশাক ব্যবসায়ীরা।”

তিনি বলেন, “এখন আর চীন বা ভিয়েতনাম বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, এই খাতে এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। তারা যেভাবে ডলার ডিভ্যাল্যুশন করেছে, ফলে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য যা করার দরকার ভারতের সরকার তাই করছে। আমরা যদি ভারতের সাথে দামের দিক দিয়ে প্রতিযোগিতায় না আসতে পারি তাহলে ব্যবসাটা আমাদের দেশ থেকে চলে যাবে।”

তবে ভারতীয় মুদ্রার এই দরপতন সাময়িক সময়ের জন্য হলে তেমন প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিআইডিএস এর গবেষক মঞ্জুর হোসেন।

তিনি বলেন, ভারতীয় রুপির মূল্য-পতন কতদূর এবং কতদিন পর্যন্ত যায় তার ওপর নির্ভর করছে পুরো বিষয়।

কিন্তু আমদানি বাড়তে থাকলে বাংলাদেশের টাকার মূল্যমান কমে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

মি হোসেন বলেন, “ভারতীয় রুপির পতনের কারণে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরকে দখল করে ফেলার মত অবস্থা এখনও আসেনি। সবটাই নির্ভর করছে আরও দু’তিন মাসে কি হয় তার ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সাথে ভারতের প্রতিযোগিতা কতদূর যাবে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়।”

মি. হোসেন মনে করেন, এই দরপতন স্বল্প সময়ে বড় ধরনের প্রভাব না ফেললেও প্রয়োজনে বাংলাদেশ যদি তার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ বা সমন্বয় করতে না পারে তাহলে পরবর্তীতে গিয়ে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।