মুম্বাই-এ গণধর্ষণের শিকার নারী সাংবাদিক

  • ২৩ অগাস্ট ২০১৩
Image caption মুম্বাই-এ পুলিশ আক্রমণস্থলে আলামত সংগ্রহ করছে

ভারতে পুলিশ বলছে, মুম্বাই শহরে একজন নারী ফটো-সাংবাদিককে গণধর্ষণ করার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পাঁচজন ব্যক্তি এক যোগে তাঁকে ধর্ষণ করে। পুলিশ আশা প্রকাশ করেছে যে অন্য চারজনকে তারা শীঘ্রই গ্রেফতার করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুম্বাই-এর লোয়ার প্যারেল এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে আক্রমণ করা হয়। তাঁর সহকর্মী একজন পুরুষকে আক্রমণকারীরা মারাত্মকভাবে জখম করে।

এই গণধর্ষণের ঘটনা ভারতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা অনেককেই গত বছর দিল্লির এক চলন্ত বাসে একজন ২৩-বছর বয়স্ক ছাত্রীর গণধর্ষণের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

‘’এটা খুবই বেদনাদায়ক প্রমাণ যে ভারতের কোন শহরই নারীদের জন্য নিরাপদ নয়,’’ অভিনেত্রী গুল পেনাং তাঁর টুইটারে মন্তব্য করেন।

দিল্লির ধর্ষণের শিকার যুবতীকে এবং তাঁর পুরুষ বন্ধুকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল। পুরুষ সঙ্গী প্রাণে বেঁচে গেলেও, যুবতী পরে হাসপাতালে মারা যান।

দিল্লির ঘটনা সারা ভারতে নিন্দার ঝড় তুলেছিলো, এবং ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে ভারত সরকার নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে বাধ্য হয়েছিলো।

বৃহস্পতিবারের আক্রমণের শিকার ফটো-সাংবাদিক মুম্বাই-এর একটি ইংরেজি ম্যাগাজিনে শিক্ষানবিশ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি শক্তি মিলস্‌ নামে মুম্বাই-এর একটি পরিত্যক্ত টেক্সটাইল কারখানায় ছবি তুলতে গিয়েছিলেন।

মুম্বাই পুলিশ কমিশনার সত্যপাল সিং ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য’ বলে বর্ণনা করে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে আক্রমণটা হয়েছিল।

তিনি বলেন, পুরুষ সহকর্মী যখন ক্যামেরা দিয়ে আর মহিলা তাঁর মোবাইল ফোন দিয়ে জরাজীর্ণ ভবনের ছবি তুলছিলেন, তখন একজন লোক এসে জানতে চায় তারা রেলওয়ের সম্পত্তিতে কী করছিলেন।

‘’তারপর ঐ লোক আরও চারজনকে ডেকে নিয়ে আসে। তারা একটি বেল্ট দিয়ে পুরুষ সহকর্মীর হাত বেঁধে রাখে, এবং মহিলাকে ধরে গাছপালার পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করে’’, মি: সিং বলেন।

মি: সিং বলেন ঘটনা তদন্ত করার জন্য পুলিশের ২০টি দল গঠন করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন সবার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে পুলিশ ৩৫জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে, এবং পাঁচজন সন্দেহভাজনের আনুমানিক প্রতিকৃতি স্কেচ আকারে বিভিন্ন জায়গায় বিতরণ করে।

দিল্লির ঘটনার পর থেকেই ভারতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

সেই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের মধ্যে একজনকে মার্চ মাসে কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

অন্য পাঁচজনের – যাদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর – বিচার শেষ হয়েছে, এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রায় ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।