ফন্টেরার দুগ্ধজাত পণ্য নিরাপদ: নিউজিল্যান্ড

  • ২৮ অগাস্ট ২০১৩
fonterra

নিউজিল্যান্ডের সরকার বলছে, দেশটির দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফন্টেরার উৎপাদিত খাদ্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি আছে বলে যে আতংক এ মাসের গোড়ার দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল তা ছিল নেহায়েত একটি অমূলক আশঙ্কা।

কর্মকর্তারা বলছেন, পরীক্ষার পর ফন্টেরার দুগ্ধজাত পণ্যে ক্ষতিকর কিছুই পাওয়া যায়নি।

এই ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হওয়ার পর চীন, রাশিয়াসহ কিছু দেশে ফন্টেরার নির্দিষ্ট কিছু পণ্য, আবার কোথাও কোথাও প্রতিষ্ঠানটির সব পণ্যই নিষিদ্ধ করা হয়। যার ফলে নিউজিল্যান্ডের ডেইরি শিল্পের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, কারণ দেশটির রপ্তানি পণ্যের এক-চতুর্থাংশই আসে এই খাত থেকে।

এদিকে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ এই প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানী করা প্রায় ছয়শ মেট্রিক টন গুঁড়ো দুধের চালান চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষমান রেখেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সঠিকভাবে পরীক্ষার পরেই এগুলো ছাড় করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস বা শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, নিউজিল্যান্ড থেকে আমদানী করা ফন্টেরা ব্র্যান্ডের গুঁড়ো দুধের নমুনা সংগ্রহ করে ক্ষতিকর কিছু আছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ মান ও পরীক্ষণ ইনস্টিটিউট বিএসটিআই ও বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ বিসিএসআইআর এর গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।

বন্দরের শুল্ক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মাহমুদুল হাসান বিবিসিকে জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাদের এমনই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Image caption ফন্টেরার দুগ্ধজাত পণ্যবাহী ট্রাক

তিনি বলেন, "চট্টগ্রাম কাস্টমসের মাধ্যমে যে আমদানী চালান রয়েছে ফন্টেরা গুঁড়ো দুধের আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বন্দরে ২৫ থেকে ত্রিশটি চালান রয়েছে যার পরিমাণ প্রায় ৬শ মেট্রিক টনের মতো হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা এসেছে যে এই চালানগুলো পরীক্ষা করে এর মাধ্যে যদি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া না পাওয়া যায় তাহলে সব পণ্য চালান শুল্কায়ন করে ছাড় দেয়া যাবে। আর যদি টেস্টে ক্ষতিকর কিছুর উপস্থিতি পাওয়া যায় তাহলে এ চালানগুলো স্থগিত করতে হবে। "

কর্মকর্তারা জানান, এই চালান গত দু মাস ধরে বন্দরে আসে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিউজিল্যান্ড থেকে আমদানি করা গুঁড়োদুধ পরীক্ষার করার ঘোষণা দেয় এবং এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের নির্দেশণা দেয়া হলো।

বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, ফন্টেরার গুঁড়ো দুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হওয়ার যে খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তার ভিত্তিতে তারা এমন নির্দেশনা দিয়েছেন।

বন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, বাংলাদেশের প্রথম সারির কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এসব গুঁড়ো দুধ আমদানীর পরে প্যাকেটজাত করে তাদের ব্র্যান্ড নামে বাজারে বিক্রী করে।

"বাংলাদেশে সাধারণত যেসব গুঁড়ো দুধ আসে তার শতভাগই বাল্ক আইটেম হিসেবে একেকটি পঁচিশ কেজি অথবা পঞ্চাশ কেজির ব্যাগে করে আসে। এখানে ফন্টেরা নামে কোনও দুধ বিক্রয় হয় না। স্থানীয় আমদানীকারক যারা রয়েছেন, যেমন আবুল খায়ের গ্রুপ, নেসলে বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড ডেইরি, প্রাণ - এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুরো তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডে ছোট ছোট মোড়কে প্যাকেটজাত এগুলো বাজারজাত করে। "

যেসব প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য নিজেদের মোড়কে বাজারে বিক্রী করছে তারা বিষয়টি নিয়ে কি বলছে? নেসলে বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর নকিব খান বলেন, "এখানে আমাদের উদ্বেগের কিছু নেই। দায়িত্বশীল একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডে কিন্তু সোর্সিং লেভেল থেকেই দৃঢ়ভাবে মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। যে দেশ থেকে আসছে সেখানে একবার টেস্ট করা হয়, আবার এখানে এসে বিএসটিআই সরকারি পর্যায়ে মান যাচাই করা হয়। ফলে এখানে ক্ষতিকর কিছু থাকার কোনও সম্ভাবনা নেই।"

এই প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগ গুঁড়ো দুধই নিউজিল্যান্ডের ফন্টেরা কোম্পানি থেকে আসে বলে জানান নকিব খান। তবে ফন্টেরার কাছ থেকে তাদের প্রতিষ্ঠান অন্য কোন শিশুখাদ্য আমদানী করে না বলে মি. খান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ গুড়ো দুধ সরবরাহ করে থাকে এই ফন্টেরা কোম্পানি।

এদিকে কর্মকর্তারা বলছেন, গত জুন মাস পর্যন্ত ফন্টেরা ব্র্যান্ডের কুড়ি হাজার মেট্রিক টনের ওপরে গুঁড়ো দুধ দেশে আমদানী করা হয়। ইতোমধ্যে বাজারে চলে আসা এসব গুঁড়ো দুধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে সরকার কিছু ভাবছে কিনা জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে, সংগ্রহ করা গুঁড়ো দুধের যে নমুনা গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে, তার পরীক্ষার ফলাফলের ওপর। এরপরই আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।