সিরিয়া প্রশ্নে ধরাশায়ী ক্যামেরন, একা লড়াইয়ের ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

  • ৩০ অগাস্ট ২০১৩
সংসদে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন
Image caption সংসদে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউজ অফ কমন্স এর সদস্যরা সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের বিপক্ষে রায় দিয়েছে। সিরিয়ায় সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে নীতিগত সমর্থনের প্রস্তাবের বিপক্ষে ২৮৫ ভোট পড়েছে। পক্ষে পড়েছে ২৭২ ভোট।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গ্রীষ্মকালীন ছুটির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এই বিশেষ অধিবেশনের ডাক দিয়েছিলেন। এই অধিবেশনের লক্ষ্য ছিল সিরিয়া প্রশ্নে সংসদে কোন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় কিনা।

তবে ভোটের এ ফল ডেভিড ক্যামেরনকে ধরাশায়ী করেছে, কারণ মিঃ ক্যামেরন সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের পক্ষে বেশ সক্রিয় ছিলেন।

মি: ক্যামেরন বলেন, ‘সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে যে হামলা চালানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া খুবই প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তবে এটা স্পষ্ট যে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কোনও ধরনের সামরিক অভিযান চায় না। ব্রিটিশ নাগরিকদের ভাবনাই এ রায়ে প্রতিফলিত হচ্ছে। আর তাই পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখে সে অনুযায়ী কাজ করবে সরকার’।

এই রায়ের মাধ্যমে সিরিয়ায় ব্রিটিশ সরকারের মার্কিন নেতৃত্বাধীন যেকোনো ধরনের আক্রমণের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বাতিল হয়ে গেল।

সন্দেহ নেই যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই রায় মিঃ ক্যামেরনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

ওদিকে ওয়াশিংটনে ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের কাছে অভিযানের পক্ষে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। সামরিক অভিযানের পক্ষে তারা গোয়েন্দা প্রতিবেদন পেশ করবে।

এর আগে হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র বলেছেন জাতির জন্য প্রয়োজন হলে নীতিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র একাই লড়বে।

অপরদিকে সিরিয়ায় সরকারী বাহিনীর হাতে আরও হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ বিবিসির হাতে এসেছে।

দেশটির উত্তরে একটি স্কুলের মাঠে বিবিসির প্রতিনিধি গিয়েছিলেন যেখানে নাপাম এর মত পদার্থ রয়েছে এমন বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। ঐ ঘটনায় ১০ টি শিশু নিহত হয় এবং অসংখ্য মানুষের দেহ ঝলসে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় বোমাটি পড়ার আগে সরকারী বাহিনীর একটি জেট উড়ে যেতে দেখা গিয়েছিল।