ব্রিটেনের 'না' সত্ত্বেও সিরিয়ায় হস্তক্ষেপের প্রশ্নে অনড় ফ্রান্স

  • ৩০ অগাস্ট ২০১৩
সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে লন্ডনে বিক্ষোভ

ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ বলেছেন, ব্রিটেনের পার্লামেন্ট সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের বিপক্ষে ভোট দিলেও ফ্রান্সের সিদ্ধান্ত এতে প্রভাবিত হবে না। এক ফরাসী সংবাদপত্রকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত সপ্তাহের রাসায়নিক হামলার পাল্টা হিসেবে তিনি এখনো সিরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পক্ষে।

ফরাসী পার্লামেন্টে সিরিয়া প্রশ্নে সামনের বুধবার আলোচনা হবে বলে কথা রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ তার আগেই সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ আরও জানিয়েছেন, সিরিয়া নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে কথা বলবেন।

এদিকে জার্মানী জানিয়েছে, তারা সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না।

জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রী গুইডো ওয়েস্টারওয়েল বলেছেন, সামরিক অভিযানে যাওয়ার অনুরোধ কেউ জানায়নি এবং এরকম কিছু তারা বিবেচনাও করছেন না।

ব্রিটেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

পার্লামেন্টে হেরে গেছেন ডেভিড ক্যামেরন

পার্লামেন্টে সিরিয়া প্রশ্নে ভোটাভুটিতে এভাবে নাটকীয়ভাবে হেরে যেতে হবে, তা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ভাবতেও পারেননি।

প্রেসিডেন্ট আসাদের কথিত রাসায়নিক অস্ত্র হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার যে প্রস্তাব তিনি রেখেছিলেন, পার্লামেন্টে বিরোধী লেবার পার্টি শুধু নয়, তাঁর নিজ দলের পেছনের সারির এমপিরাও তার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

হতচকিত মিস্টার ক্যামেরনকে ভোটে হারার পর সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিতে হয়।

ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ব্রিটেনের জনগণ যে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যেতে চায় না, তা পার্লামেন্টের ভোটের ফল থেক স্পষ্ট, তিনি এটা বুঝতে পেরেছেন এবং এখন সেই অনুযায়ীই তিনি কাজ করবেন।

মিস্টার ক্যামেরনের নেতৃত্বের জন্য এই ফল এক বিরাট ধাক্কা। কিন্তু তার চেয়েও যে প্রশ্নটা জোরে-শোরে উঠেছে তা হলো, বিশ্ব রাজনীতিতে এর ফলে ব্রিটেনের ভূমিকা আসলে কতোটা খর্ব হলো।

ইরাক যুদ্ধ থেকে শুরু করে গত কয়েক দশকে বিশ্বের নানা দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে ছিল ব্রিটেন, কিন্তু এই প্রথম তাতে একটা ছেদ পড়তে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র স্বভাবতই আশাহত, যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চাক হ্যাগেল বলছেন, এরপরও তারা সিরিয়ার প্রশ্নে ব্রিটেনের সঙ্গে শলাপরামর্শ চালিয়ে যাবেন।

পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্রিটেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে স্পেশাল রিলেশনশীপ বা বিশেষ সম্পর্কের কথা বলা হয়, সেটা কতোটা ক্ষতিগ্রস্থ হবে?

ব্রিটেনের লেবার পার্টির এমপি রজার গডসিফ, যিনি নিজে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তিনি বলছেন, সুসম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।

রজার গডসিফ বলেন, এই ভোটের মানে এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের এখানেই ইতি ঘটছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদের মতামত নিতেই হবে, এবং গতরাতে যা ঘটেছে তা এই সংসদীয় গণতন্ত্রেরই বিজয়।

সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের প্রশ্নে ব্রিটেনের এই ভিন্ন অবস্থান সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র হয়তো একাই তাদের মতো করে এগিয়ে যাবে।

ওয়াশিংটন থেকে বিবিসির মার্ক মারডেল বলছেন, একা লড়ার সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আছে, কিন্তু সিরিয়ার বিরুদ্ধে এককভাবে যুদ্ধে যাওয়া ওবামা প্রশাসনের জন্য একটি অস্বস্তিকর হবে, কারণ প্রেসিডেন্ট ওবামা এরকম ইস্যুতে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমঝোতার কথা বলে এসেছেন।

মার্ক মারডেলের মতে, এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এখন বাধ্য হবে ফ্রান্স, তুরস্ক এবং অন্যান্য মিত্রদের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করতে।