সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের জীবনাবসান

  • ১ সেপ্টেম্বর ২০১৩
ডেভিড ফ্রস্ট
Image caption ডেভিড ফ্রস্ট

খ্যাতিমান টিভি সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

শনিবার রাতে প্রমোদতরী কুইন এলিজাবেথে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় তার হার্ট অ্যাটাক হয়।

মি. ফ্রস্টের শেষকৃত্যর ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ওয়াটারগেট কেলেংকারির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সাক্ষাৎকারের সুবাদে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে মি. ফ্রস্টের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফেরার পর মি. ফ্রস্ট তারও বিশেষ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।

এক ঝলমলে জীবনের পরিসমাপ্তি

সাংবাদিকতায় বিশ্বজুড়ে যার সুনাম, সেই ডেভিড ফ্রস্টের কেরিয়ারের শুরু টেলিভিশনে ব্যাঙ্গাত্মক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। পরে তার নেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারগুলোর মাধ্যমে তার খ্যাতি পৌঁছে যায় পশ্চিমা দুনিয়ার ঘরে ঘরে।

ডেভিড ফ্রস্টের জন্ম ইংল্যান্ডের কাউন্টি কেন্টের এক শহর টেন্টারডেনে ১৯৩৯ সালের ৭ই এপ্রিল। তাঁর বাবা ছিলেন একজন মেথডিস্ট ধর্মযাজক।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে পড়াশুনা শেষ করে তিনি যোগদান করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের একটি প্রতিষ্ঠানে।

Image caption বিট্‌লসের পল ম্যার্কটনির সাথে ডেভিড ফ্রস্ট

১৯৬২ সালে তিনি বিবিসিতে শুরু করেন একটি নতুন ব্যাঙ্গাত্মক শো, যার নাম That Was The Week That Was।

যে সময়ে রাজনীতিকদের ব্যাপারে ভক্তিশ্রদ্ধায় কোন ধরনের ব্যত্যয় প্রত্যাশা করা হতো না, সে সময় এই অনুষ্ঠানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জণ করে। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, ধর্মযাজক, কেউই রেহাই পাননি মি. ফ্রস্টের পরিহাসের অস্ত্র থেকে।

সেই জনপ্রিয়তার পথ ধরে তিনি শুরু করেন নতুন ধরনের টিভি অনুষ্ঠান – বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের সাথে বিশেষ সাক্ষাৎকার।

গানের দল বিটেলস, মিক জ্যাগারের মত সংগীত ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক রাষ্ট্রনায়কের তিনি সাক্ষাৎকার নেন।

ডেভিড ফ্রস্ট সম্ভবত: একমাত্র সাংবাদিক যিনি ১৯৬৪ সালে থেকে ২০১০ পর্যন্ত সব ক’জন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, এবং ১৯৬৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

সাংবাদিকতার দীর্ঘ জীবনে বেশ ক’টি বই লিখেছেন, পেয়েছেন বহু আন্তর্জাতিক পুরষ্কার। ব্রিটেনের রানি তাকে দিয়েছেন সম্মানসূচক খেতাব।

তার সাংবাদিকতায় কায়দা সম্পর্কে ব্রিটিশ রাজনীতিক জন স্মিথ একবার তাকে বলেছিলেন, ডেভিড, তোমার প্রশ্নগুলো আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ, কিন্তু তার ফলাফল ভয়াবহ।

জবাবে ডেভিড ফ্রস্ট মন্তব্য করেছিলেন, আমি চাই আমার স্মৃতিফলকে শুধু এই কথাটিই লেখা থাকবে।

সম্পর্কিত ইন্টারনেট লিঙ্ক

ইন্টারনেটে অন্যান্য সাইটের জন্য বিবিসি দায়বদ্ধ নয়