ভারতে দাঙ্গা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, নিহত ৩০

  • ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩
মুজফফরনগরে দাঙ্গা রোধে সেনা টহল
Image caption মুজফফরনগরে দাঙ্গা রোধে সেনা টহল

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মুজফফরনগরে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা পরিস্থিতির এখনও কোনও উন্নতি হয়নি। গোটা এলাকা জুড়ে সেনাবাহিনীর টহল সত্ত্বেও গত তিনদিনে নিহতের মোট সংখ্যা সোমবার ৩০ ছাড়িয়ে গেছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত দাঙ্গায় জড়িত সন্দেহে মোট ৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে যত সেনা বা আধাসামরিক বাহিনীই লাগুক কেন্দ্র তা দিতে প্রস্তুত বলেও মি. সিং জানিয়েছেন।

এদিকে মুজফফরনগরে যে ফাগুনা থানা এলাকায় সবচয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছে তার পুলিশ কর্মকর্তাকে সোমবার বরখাস্ত করেছে রাজ্য সরকার।

মুজফফরনগর শহরের সরু রাস্তা দিয়ে, গ্রামে আখক্ষেতের পাশে জাতীয় সড়ক দিয়ে চলছে সেনাবাহিনীর টহল।

Image caption সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় কাঁপছে উত্তরপ্রদেশ

আর জেলার একটার পর একটা গ্রাম থেকে আতঙ্কিত মানুষজন ট্রাক্টর ভর্তি করে এসে ভিড় করছেন সদরে।

প্রত্যন্ত এলাকার বহু গ্রাম জনশূন্য, জ্বালিয়ে দেওয়া ঘরবাড়ি থেকে এখনও ধোঁয়া উঠছে।

দাঙ্গায় প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে, আর দেশের সবগুলো রাজনৈতিক দল এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য একে অপরকে দোষারোপ করে চলেছে।

হিংসার তৃতীয় দিনে এটাই মুজফফরনগরের ছবি এবং হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর মতো কোনও মালমশলারই সেখানে অভাব নেই।

উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নিজে দুপুরে ফোন করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবকে। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি, পরিস্থিতি নিয়ে বিশদে কথাও বলেছেন।

কিন্তু অগ্নিগর্ভ মুজফফরাবাদে এখনও শান্তি ফেরার কোনও লক্ষণই নেই।

বরং গোটা উত্তরপ্রদেশ রাজ্য জুড়েই এখন চরম সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। আর বিরোধীরাও সরকারের ইস্তফা চাইতে দেরি করেননি।

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর দল বসপা দাবি করেছে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতি শাসন।

বসপা নেতা স্বামীপ্রসাদ মৌরিয়া বলেছেন, ''নৈতিক দায়িত্ব থাকলে এই সরকারের এক্ষুণি পদত্যাগ করা উচিত। আর তা না-হলে আমরা রাজ্যপালের কাছে দাবি জানাব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় চরম ব্যর্থ এই সরকারকে বরখাস্ত করে যেন রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা হয়।''

তবে সব রাজনৈতিক দলের যাবতীয় আস্ফালনই মুজফফরাবাদ থেকে শত মাইল দূরে, কারণ কোনও দলের কোনও নেতাকেই জেলার ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না।

বিজেপি, কংগ্রেস ও উত্তরপ্রদেশের জাঠ নেতা অজিত সিংয়ের রাষ্ট্রীয় লোকদলের তিনটি আলাদা আলাদা দলকে সোমবার আটকে দেওয়া হয়েছে দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তেই।

এদিকে রাজ্য সরকারের পুলিশ মুজফফরাবাদে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য যে এফআইআর করেছে, তাতে রয়েছে একাধিক বিজেপি বিধায়কের নাম।

দিল্লিতে বিজেপি মুখপাত্র মুখতার আব্বাস নক্‌ভি অবশ্য গোটা ঘটনায় কংগ্রেস-সমাজবাদী-পার্টি-বসপার ‘ত্রিমুখী ষড়যন্ত্র’ই দেখছেন।

তার যুক্তি, এই দলগুলো এমনিতে ভোট পাবে না বুঝেই এখন দাঙ্গার আগুন ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে ভয় ছড়াতে চাইছে, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোট কব্জা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এই অভিযোগের সত্যতা যতটাই থাকুক, দাঙ্গার রাজনীতির মধ্যে ভোটের রাজনীতি যে মিশে যাচ্ছেই তা অস্বীকার করতে পারছেন না কেউই।

পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থতার জন্য প্রবল সমালোচিত রাজ্যের সমাজবাদী পার্টির সরকারকে সরাসরি দায়ী পর্যন্ত করতে পারছে না কংগ্রেস, কারণ কেন্দ্রে তাদের সমাজবাদী পার্টির সমর্থন দরকার।

কংগ্রেস মুখপাত্র রশিদ আলভি বলছিলেন, ''পুরো উত্তরপ্রদেশই যেন একটা স্পর্শকাতর এলাকা হয়ে উঠেছে। সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করে আর তা থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে যে বিজেপি তারাই এই আগুন ছড়াচ্ছে – সমাজবাদী পার্টি তাদের কন্ট্রোল করতে পারছে না।''

প্রবল তোপের মুখে থাকা উত্তর প্রদেশের তরুণ মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব সোমবার মুজফফরনগর পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও কথাই বলেননি।

তবে লখনৌতে হজযাত্রীদের একটি বিদায়-দেওয়ার অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ''মক্কায় গিয়ে আপনারা শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্বের জন্য দোয়া করবেন এই অনুরোধ রইল।''

কিন্তু এখন মুজফফরনগরের জন্য সেটা বাস্তবে করে দেখানো যে কত কঠিন, তা তিনি এখন টের পাচ্ছেন হাড়ে হাড়ে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য