ইউনূসের বিরুদ্ধে 'আয়কর অনিয়মের' অভিযোগ

ড. মোহাম্মদ ইউনূস
Image caption ড. মোহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশের সরকার 'আয়কর সংক্রান্ত অনিয়মের' অভিযোগে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা জানিয়েছেন, ড. ইউনূস গত চার বছরে অবৈধভাবে সাড়ে ১২ কোটি টাকারও বেশি আয়কর সুবিধে নিয়েছেন।

ইউনূস সেন্টারের প্রতিক্রিয়া

এই অভিযোগের ব্যাপারে ড. ইউনূসের নিজের তরফ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

তবে ড. ইউনূস পরিচালিত ইউনূস সেন্টারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, প্রফেসর ইউনূস সব সময় তাঁর বৈদেশিক আয় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী এনেছেন এবং প্রতিবছর আয়কর রির্টান জমা দেবার সময় সকল আয় এনবিআরকে প্রদর্শন করে যখন যে কর ধার্য হয়েছে তা পরিশোধ করেছেন৷

বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি সব সময় আয়কর রির্টান জমা দেবার সময় সকল দেশি ও বিদেশি আয় প্রর্দশন করেছেন৷ কাজেই যারা কর ধার্য করেন তাদেরই দায়িত্ব হলো কোনটি আয়কর মুক্ত এবং কোনটির কর দিতে হবে৷

কর কর্তৃপক্ষ কোনদিন এ ব্যাপারে কখনই প্রশ্ন করেনি৷ কখনই কোন নোটিশ কিংবা চিঠি এনবিআর তাঁকে দেননি বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

Image caption ঢাকার মীরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের সদর দপ্তর

মি. ইউনূসের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ

সাংবাদিকদের ব্রিফিং-এ মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালে ড. ইউনূস ওয়েজ আর্নার হিসেবে বিদেশ থেকে কত টাকা এনেছেন এবং তিনি তা আনতে পারেন কি না, কিংবা কী পরিমাণ কর অব্যাহতি নিয়েছেন এসব বিষয়ের ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ একটি তদন্ত চালায়।

সোমবার এই তদন্ত প্রতিবেদনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয় বলে তিনি বলেন।

মি. ভূঁইঞা জানান, গ্রামীণ ব্যাংকের দায়িত্বে থাকার সময় ড. ইউনূস ২০০৪-২০১১ সাল পর্যন্ত ১৩৩টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানী, ১০টি পুরস্কার এবং ১৩টি রয়্যালটি পেয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এই মেয়াদে তিনি সাড়ে ৫০ কোটিরও বেশি টাকা আয় করেন, তিনি বলেন, এই আয়ের ওপর মি. ইউনূস প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা আয়কর অব্যাহতি নেন।

মি. ভূঁইঞা বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তদন্তে বলা হয়েছে আয়কর অব্যাহতির যে সুবিধা গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নিয়েছেন তা বিধিসম্মত হয়নি।

গ্রামীণ ব্যাংক আইনে ব্যাংককে আয়কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, ব্যাংকের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

''আয়কর রিটার্নে সঠিকভাবে তথ্য পরিবেশন না করা আইনের লংঘন। যারা এই রিটার্ন তৈরি করেছেন তারা যেমন এজন্য দায়ী, এবং এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসাবে তিনিও এই দায় এড়াতে পারেন না।''

কর্মকর্তারা বলছেন, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কর সংক্রান্ত বিধি লংঘনের যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে ব্যবস্থা নেবে এনবিআর। আর ব্যাংকিং অনিয়মের প্রশ্নে পদক্ষেপ নেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা জানান, মন্ত্রিসভায় মি. ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপের সুপারিশ করলেও সরকার মি. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করবে কি না, সে সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য