দিল্লি গ্যাং রেপ মামলায় চারজন দোষী সাব্যস্ত

  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩
ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ
Image caption ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ

ভারতের এক আদালত রাজধানী দিল্লিতে একজন ছাত্রীকে চলন্ত বাসে গণ-ধর্ষণ ও তাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত চার ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

এখন এই অপরাধে এদের কী সাজা হবে, বুধবার আদালত তা জানাবে। দোষীদের মৃত্যুদন্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ডিসেম্বর মাসে ২৩-বছর বয়সী এক মেডিকেল ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা সারাদেশে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

দক্ষিণ দিল্লির সাকেটে যে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে দিল্লি গণধর্ষণ মামলার বিচার চলছিল, তার সামনে এদিন সকাল থেকেই ছিল জনতার ভিড়। আর ছিল অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে মুহুমুর্হু শ্লোগান।

দুপুর নাগাদ আদালতকক্ষ থেকে বেরিয়ে এলেন অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনের আইনজীবী এ.পি. সিং। তিনিই শোনালেন আদালতের সেই রায়, যার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল গোটা দেশ।

Image caption রায়ের আগে আসামিদের আদালতে নেয়া হচ্ছে

তিনি বলছিলেন, ফাস্ট ট্র্যাক আদালত চারজন অভিযুক্তর প্রত্যেককেই প্রতিটি ধারায় এবং যে সব অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল তার প্রতিটিতেই দোষী সাব্যস্ত করেছে। বুধবার সকাল ১১টায় বিচারক তাদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য এজলাসে বসবেন।

দিল্লিতে ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণীর ওপর যে অত্যাচার হয়েছিল, তার বিচারের দাবি যেভাবে নিমেষে প্রায় গোটা দেশের দাবি হয়ে উঠেছিল সেটা এখন ইতিহাস। এরপর ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে ভারতে আইন অনেক কঠোর করা হয়েছে।

আজকের রায়ের পর দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্ডে সরাসরি বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারতে ধর্ষণকারীরা ফাঁসি থেকে নিস্তার পাবে না।

তিনি বলেন, ''আগামী দিনে কেউ যদি ধর্ষণের মতো কোনও অপরাধ করে তাদের জন্য আইন আমরা অনেক কঠোর করেছি। তাদের অবশ্যই মৃত্যুদন্ড হবে।''

তবে যেহেতু আইনের সংশোধন হয়েছে দিল্লিতে ডিসেম্বরের ওই পাশবিক গণধর্ষণের পরে, তাই নতুন আইন সে ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

যে চারজন আজ দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাদের ফাঁসির সাজা হবে কি না সেটাও জানা যাবে না আগামিকালের আগে।

কিন্তু বিরোধী দল বিজেপির নেত্রী সুষমা স্বরাজ, যিনি আগাগোড়াই এই ধর্ষণের ঘটনার বিরুদ্ধে সরব ছিলেন, তিনি মঙ্গলবারই বলে দিয়েছেন ফাঁসি ছাড়া তাদের অন্য শাস্তির কথা ভাবাই যায় না।

মিস স্বরাজের কথায়, এরা এত জঘন্য অপরাধ করেছে – এবং এখন গণধর্ষণ ও হত্যা – দুটোর জন্যই দোষী প্রমাণিত হয়েছে, ফলে অবশ্যই তাদের ফাঁসি হওয়া উচিত। এদের চারজনের ফাঁসি হলে ভবিষ্যতে সেটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঢেউ হয়তো থামবে।

এদের ফাঁসি হলেই ধর্ষণের ঘটনা কমবে, এরকম সরলীকরণে অবশ্য বিশ্বাস করেন না ভারতের নারী আন্দোলনের নেত্রীদের অনেকেই।

কিন্তু ধর্ষণকারীদের জন্য ফাঁসিই একমাত্র শাস্তি, এই মতের পক্ষেই যে দেশের বেশির ভাগ মানুষ, বা অন্তত যারা বিচারের দাবিতে আন্দোলন করেছেন তাদের বেশির ভাগ তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

দিল্লিতে নির্যাতিতা তরুণীর ছোট ভাই নিজেও সেই দাবিতেই আজ গলা মিলিয়েছেন।

ওই তরুণীর ভাই বলছিলেন, ওই চারজনের বিরুদ্ধে ১৩টা ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল, তার ১২টাতেই তারা দোষী। এর মানে তো এরা সম্পূর্ণ দোষী। এতগুলো অভিযোগ, তার মানে তো অবশ্যই ফাঁসি হতে হবে।

দিল্লির গণধর্ষণকারীদের ফাঁসিকাঠে ঝুলতে হবে কি না, আদালত সেই রায় জানাবে রাত পোহালেই।

কিন্তু অভিযুক্তরা দোষী প্রমাণিত হওয়ার পর প্রায় সারা দেশ তাদের জন্য কী শাস্তি চাইছে সেটা বুঝতে এতটুকুও কষ্ট করার দরকার পড়ছে না।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য