কলকাতার স্কুলে নির্যাতনে ছাত্রীর মৃত্যু

  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩
স্কুল অঙ্গণে ক্ষুব্ধ বাবা-মায়েরা
Image caption স্কুল অঙ্গনে ক্ষুব্ধ বাবা-মায়েরা

ভারতের কলকাতার একটি প্রাচীন স্কুলের ক্লাস ফাইভের এক ছাত্রীর মৃত্যুর পর পুলিশ প্রিন্সিপালকে আটক করেছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে অভিভাবকরা বৃহস্পতিবার স্কুলটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালিয়েছেন।

বাবা-মায়েদের অভিযোগ স্কুলের অধ্যক্ষা এবং শিক্ষিকারা সময়মত ব্যবস্থা নিলে শিশুটির অকাল মৃত্যু হত না।

ছাত্রীর পরিবার অভিযোগ করেছে যে স্কুলেরই বড় ক্লাসের কয়েকজন ছাত্রী নিয়মিত তার ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করত। তাকে বাথরুমে বেশ কয়েকঘন্টা আটকিয়ে রাখা হয়েছিল।

এর ফলেই মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বুধবার মারা যায়।

দমদমের ক্রাইস্ট চার্চ স্কুলের ক্লাস ফাইভের ছাত্রী ঐন্দ্রিলা দাসের মৃত্যুর জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকেই সরাসরি দায়ী করে বৃহস্পতিবার কয়েকশো অভিভাবক বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সকাল থেকেই।

যে কয়েকজন সিনিয়র ছাত্রী ঐন্দ্রিলাকে র‍্যাগিং করেছিল, তাদের শাস্তির সঙ্গেই স্কুলের প্রিন্সিপালের পদত্যাগ আর কঠোর শাস্তিরও দাবি করতে থাকেন অভিভাবকরা।

Image caption একপর্যায়ে শুরু হয় ভাঙচুর

ছাত্রীর পরিবার অভিযোগ করেছে যে কয়েকজন সিনিয়র ছাত্রী মাঝে মাঝেই ১০০ টাকা দাবি করত। না দিতে পারলে মেয়েটিকে শাস্তি দিত।

সপ্তাহ দুয়েক আগে টাকা না দিতে পারায় তাকে বাথরুমে বেশ কয়েক ঘন্টা আটকে রাখা হয়। পরে সাফাইকর্মীরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

তারপর থেকেই মানসিক ও শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল ঐন্দ্রিলা।

বুধবার এক চিকিৎসক ইঞ্জেকশান দেওয়ার পরেই অবস্থা খারাপ হতে থাকে এবং পরে মেয়েটি মারা যায় ।

সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তার দাবি করতে থাকেন উদ্বিগ্ন বাবা-মায়েরা।

এক পর্যায়ে বিক্ষোভ চরমে পৌঁছায় এবং শুরু হয় ভাঙ্গচুর।

সন্ধ্যায় পদত্যাগ করেছেন স্কুলের প্রিন্সিপাল হেলেন সরকার। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

অন্যদিকে মৃতা ছাত্রী ঐন্দ্রিলা দাসের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী আর শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা ভারতেই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুনিয়র ছাত্রছাত্রীদের র‍্যাগিং করার চল রয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রেই র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়।

গত এক সপ্তাহে কলকাতার দুটি শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে চার-পাঁচজন ছাত্রদের কাউকে বহিষ্কার, কাউকে কিছুদিনের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।