দিল্লির গণধর্ষণ মামলায় আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩
Image caption আইনজীবী এপি সিং

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বার কাউন্সিল বলছে, মেডিকেলের ছাত্রীকে গণ-ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় যে আইনজীবী দু’জন আসামীর পক্ষে আদালতে অংশ নিয়েছিলেন তারা তার লাইসেন্স প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।

বার কাউন্সিল বলছে, ওই আইনজীবীর কিছু মন্তব্যের কারণে তার লাইসেন্স প্রত্যাহার করার কথা ভাবা হচ্ছে।

আইনজীবী এপি সিং নিহত ঐ ছাত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছিলেন, ছাত্রীটি বিবাহ-পূর্ব যৌন সম্পর্কে লিপ্ত ছিলো এবং রাতের বেলায় একজন ছেলেবন্ধুকে নিয়ে বাইরে যেতো।

এই মামলায় বিচারের পর আইনজীবী মি. সিং বলেন, ছাত্রীটি যদি তার মেয়ে হতো তাহলে তিনি তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলতেন এবং অন্যান্য পিতামাতারও একই কাজ করা উচিত।

পরে মি. সিং বিবিসিকে বলেছেন, এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত এবং সাধারণ ভারতীয়রা তার এই বক্তব্য মেনে নেবেন।

তিনি বলছেন, তার বক্তব্যকে প্রকৃত ঘটনার বাইরে নিয়ে গিয়ে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

Image caption এই গণ-ধর্ষণের ঘটনা সারা ভারতে তীব্র প্রতিবাদ বিক্ষোভের জন্ম দেয়

মি. সিং-এর এই মন্তব্য আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বার কাউন্সিল বলছে, আইনজীবী এপি সিং এই বক্তব্যের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে আদালতে তার প্র্যাকটিস করার অনুমতি বাতিল করা হবে।

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান রাকেশ সেরাওয়াত বিবিসিকে বলেছেন, এই বক্তব্য দেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে মি. সিং সারাজীবনের জন্যে তার লাইসেন্স হারাতে পারেন।

মি. সিং ছিলেন অক্ষয় ঠাকুর ও ভিনায় শর্মার আইনজীবী।

শুক্রবার আদালতের রায়ে এই দু’জনসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে আদালতের বাইরে তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চলন্ত বাসে ঐ ছাত্রীকে গণ-ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা সারা ভারতে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

২৫ সদস্যের এই বার কাউন্সিল আগামী শুক্রবার এবিষয়ে বৈঠকে বসছে।