বিবিসির অনুসন্ধান: গার্মেন্টস শ্রমিকের ১৯ ঘণ্টা কর্মজীবন

  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩

বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের কোনও কোনও কারখানায় শ্রমিকদের এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিবেশে একটানা ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।

বিবিসির প্যানারোমা অনুষ্ঠানের জন্য এসব কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজের গোপন ভিডিও তোলা হয়েছে এবং এতে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে কারখানা কর্তৃপক্ষ দুই ধরনের হাজিরা খাতা ব্যবহার করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় কাজ করার খবর ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গোপন রাখতেই এটা করা হচ্ছে।

তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মকানুন মেনেই তাদের কারখানায় কাজ চলে।

প্যানোরামার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলের একটি গার্মেন্টস কারখানায় মধ্যরাতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে শ্রমিকেরা তখনও কাজ করছেন। এদের কাজের শিফট শুরু হয়েছে ভোর সাতটা থেকে।

ওই কারখানাটি ব্রিটিশ সুপারমার্কেট চেইন লিডলের জন্য পোশাক বানায়।

'ডাইং ফর এ বার্গেইন' শিরোনামে এই প্রতিবেদনটি সোমবার বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠানে প্রচার করা হবে।

এই প্রতিবেদনে দেখা যায়, কারখানাটিতে কাজ চলার সময় তার প্রধান ফটক তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

১৯ ঘণ্টা পর, রাত আড়াইটার সময় কারখানাটি ছুটি দেয়া হয়। পরদিন সকাল সাতটায় শ্রমিকদের আবার কাজে ফিরতে হবে।

ওই কারাখানার একজন শ্রমিক বিবিসির সাংবাদিককে জানান, 'আমার খুব খারাপ লাগে। আমার স্বাস্থ্যও খারাপ হয়ে গেছে। গত দুই সপ্তায় আমরা মোট আট দিন নাইট ডিউটি করেছি। এর মধ্যে গত সপ্তায়ই ছিল ৫ কি ৬টি নাইট।'

বিবিসির সংবাদদাতা এক পর্যায়ে বিদেশী ক্রেতার ছদ্মবেশে কারখানাটির ভেতরে ঢোকেন। তিনি সেখানে কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করেন, তারা কি কখনো মূল ফটকে তালা দেয় কি না।

কর্মকর্তাদের জবাব ছিল, 'না। কখনোই না। দুটো দরজাই সবসময় খোলা থাকে'।

দুই রকমের টাইম-শিট

সংবাদদাতা যেদিন শ্রমিকদের ১৯ ঘণ্টা কাজ করতে দেখেছেন, সেদিনের উল্লেখ করে কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বলেন, ওইদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটাতেই কারখানা ছুটি হয়ে গেছে।

এ দাবির সপক্ষে সেখানে কর্ম ঘণ্টার তালিকা বা টাইম-শিটও দেখায় তারা।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, তিনি প্রমাণ পেয়েছেন, ওই কারখানায় দুটি টাইম-শিট তৈরি করা হয়। একটি আসল টাইম-শিট। আরেকটি বিদেশি ক্রেতাদের দেখানোর জন্য।

তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের কারখানা নিয়ম মেনেই চলে এবং এখানে অতিরিক্ত সময় কাজ করা বাধ্যতামূলক নয়।

সুপারমার্কেট চেইন লিডলকে বিবিসির তরফ থেকে এসব তথ্য জানানো হলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে।

বাংলাদেশের পোশাক খাতে এখন ৪০ লাখ মানুষ কাজ করে। এটাই দেশটির অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

কিন্তু গত এপ্রিল মাসে এই খাতের অন্ধকার দিকটাও বিশ্ববাসী দেখেছে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

ওই সময়ে ঢাকার কাছে সাভারে রানা প্লাজা নামে একটি ভবন ধ্বসে ১১০০’রও বেশী মানুষ মারা গেছে, যে ভবনটির বেশীরভাগ ফ্লোরেই ছিল পোশাক কারখানা।