বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে ভারতের বিদ্যুৎ

  • ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩
india electricity

বাংলাদেশ আজ (শুক্রবার) থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করেছে।

প্রথমদিনে সীমান্তবর্তী কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারায় গ্রিড কেন্দ্রে দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রীডে ৫০ মেগাওয়াট দিয়ে শুরু করে ১৭৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন সম্ভব হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সীমান্তবর্তী কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারায় নির্মিত গ্রিড কেন্দ্রে দিয়ে এই সঞ্চালন হয়। কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন বিবিসিকে বলেন, পরপর তিনদিন পরীক্ষামূলক এই সঞ্চালন সফল হলে অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আমদানি শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচই অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করবেন বলে কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী নভেম্বরের শেষে বিদ্যুৎ আমদানি পাঁচশ’ মেগাওয়াটে পৌছানোর টার্গেট রাখা হয়েছে।

২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বিদ্যুৎ আমদানির ব্যাপারে দুদেশের মধ্যে বোঝাপড়া হয়। পরে এ নিয়ে দুদেশের মধ্যে ২৫ বছরের চুক্তি সই হয়েছে।

এই আমদানি চুক্তি কার্যকরী করতে বাংলাদেশের ভেড়ামারা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরে সুইচ স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। একইসাথে দুই দেশের জাতীয় গ্রিড লাইনের সংযোগের জন্য ৯৮ কিমি সঞ্চালন লাইন বসানো হয়েছে।

প্রতি ইউনিট ছয় টাকা

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত থেকে বিদ্যুতের দাম পড়বে ইউনিট প্রতি বড়জোর ছয় টাকা, যেখানে কুইক রেন্টাল থেকে সরকারকে এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে ১৪ টাকায়।

প্রথম ধাপে অক্টোবরের মধ্যে আড়াইশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে ভারতের সরকারি খাত থেকে। বাকি আড়াইশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতের বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া হবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হলেও তাতে দামের হেরফের হবে না বলে ঢাকায় কর্মকর্তারা বলছেন।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিব মনোয়ার ইসলাম বিবিসিকে বলেন, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ছয় টাকার বেশি হবে না।

তিনি বলেন এখন দেশে ছয় হাজার সাতশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে যে সাতশ মেগাওয়াটের মত ঘাটতি রয়েছে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ তা অনেকটা কমিয়ে আনবে।

সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন হবে?

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক এম তামিম বলেন কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর তুলনায় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক সাশ্রয় হবে তবে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

"বিদ্যুৎ কেনাবেচাটা একটা ব্যবসা। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন হবে কিনা,নির্ভরযোগ্য হবে কিনা, তাও দেখার বিষয়। ছয়মাস বা এক বছর গেলে সেটা পরিষ্কার হবে।’

বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম অবশ্য বলেন, ভারত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার প্রশ্নে দু’পক্ষেরই চেষ্টার কোন ত্রুটি থাকবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন। "সার্কের আওতায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ এর ব্যাপারে সহযোগিতার কথা রয়েছে। এটা তার সূচনা।"

২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বিদ্যুৎ আমদানির ব্যাপারে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এর ভিত্তিতে পরে এ নিয়ে দুদেশের মধ্যে ২৫ বছরের চুক্তি সই হয়েছে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য