নোবেল শান্তি পুরস্কার পেল ওপিসিডাব্লিউ

  • ১১ অক্টোবর ২০১৩
থরবির্য়ন ইয়াগল্যান্ড
Image caption অসলোয় নোবেল ইন্সটিটিউটে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করছেন থরবির্য়ন ইয়াগল্যান্ড

রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এরকম একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা অর্গেনাইজেশন ফর দি প্রহিবিশন অব কেমিক্যাল ওয়েপন্স বা ওপিসিডাব্লিউ এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে।

নরওয়ের নোবেল কমিটি আজ শুক্রবার এই পুরস্কার ঘোষণা করে বলেছে, রাসায়নিক অস্ত্র নির্মূল করার লক্ষ্যে সংস্থাটি যে ভূমিকা রেখেছে তা খুবই প্রশংসনীয়।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান থরবির্য়ন ইয়াগল্যান্ড তাঁর ঘোষণায় বলেন রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের জন্য এই সংস্থার ব্যাপক অবদানের জন্য এই সম্মান তাদের দেওয়া হল ।

সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ রাসায়নিক অস্ত্রের মজুত ইতিমধ্যেই ধ্বংস করা হয়েছে।

রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক সনদ কেমিক্যাল ওয়েপন্স কনভেনশন বাস্তবায়নের জন্য ১৯৯৭ সালে এই সংস্থা ওপিসিডাব্লিউ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে সফল অস্ত্রবিরতি চুক্তিগুলোর অন্যতম এই সনদ কার্যকর হয় বিশ বছর আগে।

Image caption ওপিসিডাব্লিউ-েএর মহাপরিচালক আহমেত উজুম্‌চু

ওপিসিডাব্লিউর সদস্য দেশ ১৮৯টি এবং সংস্থার মূল লক্ষ্য বর্তমান রাসায়নিক অস্ত্রের মজুতের ওপর নজর রাখা ও তা ধ্বংসের কাজ তত্ত্বাবধান করা।

সংস্থা সম্প্রতি সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ও অস্ত্রের গুদাম ধ্বংসের কাজ তত্ত্বাবধান করছে। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান থরবির্য়ন ইয়াগল্যান্ড তার ভাষণে বলেন, ''সিরিয়ায় সম্প্রতি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনার পর এধরনের অস্ত্র নির্মূল করার ব্যাপারে উদ্যোগ আরো জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাটা সামনে এসেছে।''

তিনি বলেন কিছু কিছু দেশ এখনও ওপিসিডাব্লিউ-র সদস্য নয়।

''কোনো কোনো দেশ রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার জন্য বেঁধে দেওয়া এপ্রিল ২০১২-র সময়সীমা অগ্রাহ্য করেছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য দেশ হল আমেরিকা ও রাশিয়া।''

ওপিসিডাব্লিউ সিরিয়াতেই প্রথম যুদ্ধাবস্থার মধ্যে অস্ত্র ধ্বংসের কাজ করছে।

ধারণা করা হচ্ছে সিরিয়া আগামীতে রাসায়নিক অস্ত্র সনদে স্বাক্ষর করবে। সেটা হলে সিরিয়া হবে এই সনদে স্বাক্ষরকারী ১৩১তম দেশ।

ওপিসিডাব্লিউ-র কাজে সহযোগিতা করেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত ও নামকরা গবেষণা সংস্থার ৫শ’য়ের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র বিজ্ঞানী।

নোবেল পুরস্কার হিসাবে সংস্থা পাচ্ছে সোনার মেডেল এবং সাড়ে বারো লক্ষ ডলার।

নোবেল শাস্তি পুরস্কারের জন্য এবছর রেকর্ড সংখ্যক ২৩৯টি নাম মনোনয়ন করা হয়েছিল যার মধ্যে পাকিস্তানি স্কুলছাত্রী মালালা ইউসুফজাই এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের চিকিৎসক ডেনিস মুকউইয়েগ নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে পারেন বলে ব্যাপক জল্পনা ছিল।