BBC navigation

ঘূর্ণিঝড় পাইলিন আঘাত হানছে ভারতের উপকূলে

সর্বশেষ আপডেট রবিবার, 13 অক্টোবর, 2013 02:28 GMT 08:28 বাংলাদেশ সময়

বঙ্গোপসাগের সৃষ্ট ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ‘পাইলিন' শনিবার ভারতীয় সময় রাত সোয়া ন'টার দিকে উড়িষ্যার গোপালপুরে প্রথম আঘাত হেনেছে।আজ রবিবার ভোর থেকে কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে কাজ শুরু করেছেন।

উড়িষ্যা এবং অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে এখনো ঝড়ো হাওয়া বইছে। উড়িষ্যার রাজ্য সরকার জানিয়েছে, সেখানে অন্তত সাত জন নিহত হয়েছেন বলে তারা খবর পেয়েছেন।

ঝড়ের কারণে ভুবনেশ্বর সহ বহু জায়গাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ভারতের আবহাওয়া দফতরের প্রধান এল এস রাঠোর জানান, ঘূর্ণিঝড়টি যখন গোপালপুরে আঘাত হানে তখন এর আওতায় বাতাসের গতি ছিল ঘন্টায় ২০০ হতে ২১০ কিলোমিটার।

মার্কিন নৌবাহিনীর ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র ‘পাইলিন’কে সুপার সাইক্লোন বা সর্বোচ্চ মাত্রার সাইক্লোন বলে বর্ণনা করছে যার আওতায় বাতাসের গতি ঘন্টায় ১৯৬ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে ভারতের আবহাওয়া দফতর বলছে এটি ক্যাটাগরি চার সাইক্লোন।

"বাতাসের যে তীব্র আওয়াজ আমি শুনছি, এরকম আওয়াজ আমি জীবনে শুনিনি। ঝড়ের এই তীব্র আওয়াজ সারা জীবন আমার মনে থাকবে।"

উড়িষ্যা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা সালমান রাভি

এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ভারতের পূর্ব উপকূল জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। অন্তত পাঁচ লক্ষ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

কোলকাতা থেকে বিবিসির অমিতাভ ভট্টশালী জানান, ঘূর্ণিঝড় পাইলিন উড়িষ্যা রাজ্যের গোপালপুর দিয়ে প্রথম স্থলভাগে আঘাত হানে। উড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশের প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশো কিলোমিটার উপকূল রেখা জুড়ে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।

ভারতের উপদ্রুত এলাকার বন্দরগুলোকে আবহাওয়া দফতর থেকে দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়।

সামরিক বাহিনী মোতায়েন

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ভারত সরকার ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনী সদস্যদের মোতায়েন করেছে।

সেই সঙ্গে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনীর প্রায় ২৩০০ সদস্যকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিবিসির অমিতাভ ভট্টশালী জানান, ১৯৯৯ সালে এক ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় দশ হাজার মানুষের নিহত হয়েছিলেন। সেবার ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সরকারের যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল না বলে সমালোচনা হয়েছিল। সে কারণে এবার আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার জন্য সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

সারা রাত ধরে অভিযান চালিয়ে উপকুল থেকে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়।

জনশূন্য গোপালপুর

ঘূর্ণিঝড় পাইলিন উড়িষ্যার যে জায়গায় প্রথম আঘাত হানে, সেখান থেকে পনের কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলেন বিবিসির একজন সংবাদদাতা সালমান রাভি।

ঝড় আঘাত হানার ঘন্টাখানেক আগে টেলিফোনে তিনি বিবিসি বাংলাকে জানান, সেখানে তখনই প্রচন্ড হাওয়ায় বাড়ী ঘরের টিনের চাল উড়ে যেতে শুরু করে।

“আমি দেখছি আমার সামনে টিনের চাল উড়ে যাচ্ছে, গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে । রাস্তাঘাট একেবারে অন্ধকার। কিছুই দেখা যাচ্ছে না।”

“বাতাসের যে তীব্র আওয়াজ আমি শুনছি, এরকম আওয়াজ আমি জীবনে শুনিনি। ঝড়ের এই তীব্র আওয়াজ সারা জীবন আমার মনে থাকবে।”

তিনি আরও জানান, বহু মানুষকে উপকূলীয় এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও গবাদিপশু রক্ষার কোন ব্যবস্থা না করায় অনেকে তাদের বাড়ী ছেড়ে যেতে চাইছেন না।

সুপার সাইক্লোন

মার্কিন নৌবাহিনীর ‘টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার’এই ঘুর্ণিঝড় সম্পর্কে যে পূর্বাভাস দিচ্ছে, তার সঙ্গে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাসের কিছুটা তফাৎ দেখা যাচ্ছে।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের হিসেবে ‘পাইলিন’ হচ্ছে ক্যাটাগরি ফোর বা চার মাত্রার ঘূর্ণিঝড়। এই ঘূর্ণিঝড়ের আওতার মধ্যে ঝড়ো বাতাসের সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘন্টায় ১৩৬ মাইল হতে ১৫০ মাইল পর্যন্ত। এর সঙ্গে দশ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাসও হতে পারে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের হিসেবে এই ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতি ঘন্টায় ১৬১ মাইল হতে বেড়ে ১৯৬ মাইল পর্যন্ত হতে পারে। যা ক্যাটাগরি ফাইভ ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য।

সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে ক্যাটাগরি ফাইভ হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী। এই ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপারে ভারতীয় কর্মকর্তারা যে ধারণা দিচ্ছেন, তার চেয়ে চেয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের আশংকা কিন্তু অনেক বেশি।

নিউইয়র্ক টাইমস মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলছে, বঙ্গোপসাগরে এ পর্যন্ত যত ঘূর্ণিঝড়ের রেকর্ড তাদের কাছে আছে, পাইলিন হতে যাচ্ছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻