ইরানের পরমাণু কর্মসূচি আলোচনা নিয়ে আশাবাদ

  • ১৫ অক্টোবর ২০১৩

ইরান জানিয়েছে, জেনেভায় বিশ্বের ছয়টি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশেই শুরু হয়েছে।

ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি দায়িত্ব নেয়ার পর পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে এই আলোচনা শুরু হলো।

ইরানের সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট্ হাসান রুহানি তার দেশের সঙ্গে পশ্চিমের সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায় শুরুর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জেনেভার এই আলোচনায় সেটার পরীক্ষা হবে।

আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জাভেদ যারিফ। মিস্টার যারিফ একজন উদ্যমী কূটনীতিক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি উচ্চশিক্ষা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফেসবুক এবং টুইটারেও তার সরব উপস্থিতি দেখা যায়।

আজকের আলোচনার শুরুতেই ইরানী পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ল্যাপটপ থেকে এক ঘন্টা ধরে পাওয়ার পয়েন্টে ইরানের প্রস্তাবগুলো অন্যদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। এসব প্রস্তাবে কি আছে তা এখনো জানা যায়নি।

কিন্তু ইরানের ডেপুটি পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাকচি দাবি করছেন, অন্যদেশগুলো এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, এই আলোচনাকে তাঁরা খুবই গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা কেবল প্রতীকি আলোচনার জন্য বা সময় নষ্ট করতে এখানে আসেননি। ইরান একটি সত্যিকারের লক্ষ্য অর্জনের আলোচনায় আগ্রহী এবং ইরানের প্রস্তাব সবার কাছ থেকে অনুকুল সাড়া পাবে বলে তারা আশাবাদী।

পশ্চিমা কূটনীতিকরাও ইরানের এই নতুন উৎসাহ ব্যঞ্জক স্বরকে স্বাগত জানাচ্ছেন। কিন্তু তাঁরা দেখতে চান ইরান নতুন কি প্রস্তাব টেবিলে দেয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাশটন বলেন, তাঁরা আশা করেন জেনেভায় দুদিনের এই আলোচনা ফলপ্রসু হবে। এবং দুপক্ষের তরফ থেকে যেসব প্রস্তাব আসবে, সেগুলো খতিয়ে দেখার একটা সুযোগ হবে। একটা সতর্ক আশাবাদ নিয়ে তারা এখানে এসেছেন।

ইরান যাতে কোন ভাবেই তার পরমাণু কর্মসূচিকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার পর্যায়ে নিয়ে যেতে না পারে, সেটাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।

ইরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আপোসরফায় রাজী হয়, তাহলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সেগুলো তারা শিথিল করতে পারে।

তবে একজন মার্কিন কূটনীতিক বলেছেন, এই আলোচনা থেকে চটজলদি কোন ফল পাওয়ার আশা করা উচিত হবে না।