আলোচনার উদ্যোগ না নিলে তিন দিনের হরতাল

  • ২৫ অক্টোবর ২০১৩

বাংলাদেশে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকারকে শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া।

একই সঙ্গে তিনি ২৭শে অক্টোবর ভোর ছয়টা হতে ২৯শে অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত টানা তিন দিনের হরতালের ডাক দিয়েছেন।

ঢাকার সোহরোয়ার্দী উদ্যানে ১৮ দলীয় জোটের এক জনসভায় খালেদা জিয়া বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন কোন সরকারের অধীনে তাঁরা নির্বাচনে যাবেন না।

তিনি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে দাবি জানিয়ে বলেন, সরকারকে এই লক্ষ্যে দ্রুত আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্যে তিনি সরকারকে আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।

Image caption ঢাকায় বিরোধী জোটের সমাবেশে যোগ দিতে আসেন বহু মানুষ

আন্দোলন এবং আলোচনা দুটিই পাশাপাশি চলবে একথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। এজন্য সবাইকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সোহরোয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় খালেদা জিয়ার তাঁর ভাষণে সরকারের সঙ্গে কোন রকমের সহযোগিতা না করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার অবৈধ হয়ে গেছে। আপনারা এদের সঙ্গে কোন সহযোগিতা করবেন না, দলীয় কর্মীর মতো আচরণ করবেন না। অবৈধ সরকারকে সহযোগিতা করা অন্যায় কাজ।”

ঢাকায় ১৮ দলীয় জোটের এই কর্মসূচিকে ঘিরে গত সপ্তাহখানেক ধরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ।

সরকার ঢাকায় সব ধরণের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করলেও শেষ পর্যন্ত বিরোধী জোটকে এই জনসভার অনুমতি দেয়।

বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট চায় একজন নির্দলীয় ব্যক্তিকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে নির্বাচন করতে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষপাতী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরে নির্বাচন-কালীন সরকারের ব্যাপারে তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।