বঙ্গোপসাগরের সীমানা বিরোধ মেটাতে আন্তর্জাতিক জরিপ

বঙ্গোপসাগরে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে বিরোধ চলছে, তার নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে সরেজমিনে সফর করে গেলেন হামবুর্গের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিশেষজ্ঞরা।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর ল অব দ্য সি-তে এই বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা চলছে গত বেশ কয়েক মাস ধরে, এখন সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই ট্রাইব্যুনালের প্রতিনিধিরা এ সপ্তাহে বাংলাদেশ ও ভারতে চার দিনের সফরে এসেছিলেন।

জল ও আকাশপথে তারা বঙ্গোপসাগরের বুকে বিস্তর ঘোরাঘুরি করেছেন, তবে এই পরিদর্শনের পর তারা কী সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন সে ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

হামবুর্গের যে সালিশি আদালতে ঢাকা ও দিল্লি তাদের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ মেটাতে চাইছে, তাদের নিযুক্ত আরবিট্রাল ট্রাইব্যুনালে মোট সদস্য আছেন পাঁচজন।

এই ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট জার্মানির রুডিয়ার উলফ্রাম, তাঁর নেতৃত্বেই কমিটির মোট চারজন সদস্য প্রচুর নথিপত্র ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে বুধবার ঢাকায় এসে পৌঁছান।

পরদিনই তারা বাংলাদেশী নৌবাহিনীর একটি হোভারক্র্যাফটে চেপে বঙ্গোপসাগরে বেরিয়ে পড়েন, আর পরে মাঝসমুদ্রে তাদের তুলে নেয় ভারতীয় একটি হোভারক্র্যাফট।

পরে ভারতীয় নৌবাহিনীর হেলিকপ্টারে চেপেও তারা বঙ্গোপসাগরের আকাশে বহুক্ষণ পাড়ি দিয়েছেন – পর্যবেক্ষণ করেছেন সমুদ্রের সেই অংশটি, যার ওপর দাবি জানাচ্ছে প্রতিবেশী দুই দেশই।

এরই মাঝে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি হেলিকপ্টার যশোরে উড়ে গিয়ে নিয়ে এসেছিল পর্যবেক্ষকদের যন্ত্রপাতিও – আর বলা হচ্ছে, ১৯৭১র পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় সেনা কপ্টার বাংলাদেশের আকাশে উড়ল।

এমন ঘটনাবহুল একটি পরিদর্শনের শেষে শনিবার কলকাতা থেকে ফিরে গেছেন ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা, তবে প্রেসিডেন্ট উলফ্রাম কিংবা তাঁর সতীর্থ – গানার টমাস মেনসা, অস্ট্রেলিয়ার ইভান শিয়ারার কিংবা ফ্রান্সের জঁ পিয়ের কট – কেউই তাদের সফর নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।

বিষয়টি যেহেতু আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারাধীন এবং দুপক্ষই এখন রায়ের অপেক্ষায় – তাই ভারত ও বাংলাদেশও ট্রাইব্যুনালের এই সফর নিয়ে একেবারেই মুখ খুলছে না।