হাসিনা-খালেদার কথোপকথন ফাঁসে ক্ষুব্ধ বিএনপি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার টেলিফোন সংলাপ ফাঁস করার ঘটনাকে বিএনপি ‘শিষ্টাচার বহির্ভূত’ এবং 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে বর্ণনা করেছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেটাকে অংকুরেই নষ্ট করার জন্য টেলিফোন আলাপ ফাঁস করা হয়েছে।

উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া গত শনিবার টেলিফোনে আধ ঘন্টার বেশি সময় ধরে সরাসরি কথাবার্তা বলেন।

কিন্তু দুই নেত্রীর এই ফোনকলের রেকর্ড সোমবার রাতেই ঢাকার বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয়।

প্রায় ৩৭ মিনিটের এই আলাপচারিতার বেশিরভাগ সময় দুই নেত্রী বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী নেত্রীকে বার বার তিন দিনের হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

কিন্তু অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেরকম শেষ সময়ে ফোন করেছেন, তখন আর হরতাল প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়।

টক অব দ্য টাউন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী নেতার মধ্যে ব্যক্তিগত টেলিফোন কলে দেশের রাজনীতি নিয়ে সরাসরি আলাপের ঘটনা খুবই বিরল এক ঘটনা।

তাই সোমবার রাতে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার কথোপকথন ফাঁস হওয়ার পর এটি শোনার জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল তীব্র কৌতুহল।

কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত এই কথোপকথনের রেকর্ড খুব দ্রুতই ইন্টারনেটে ফেসবুক এবং ইউটিউবের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

দুই নেত্রীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পর আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে বলে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল এই আলাপের রেকর্ড শোনার পর ফেসবুকে অনেকেই এ ব্যাপারে হতাশাব্যাঞ্জক মন্তব্য করেছেন।

টেলিফোন কথোপকথনের বেশিরভাগ সময় জুড়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির নানা বিষয় নিয়ে তিক্ত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।

লাল টেলিফোন

টেলিফোন কলের একেবারে শুরুতেই শুরুতেই শেখ হাসিনা যখন জানান যে দুপুরে অনেক বার ‘রেড টেলিফোনে’ চেষ্টা করেও তিনি বিরোধী নেত্রীকে পাননি, তখন এর তীব্র প্রতিবাদ জানান খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, তাঁর বাসার লাল টেলিফোন বহু দিন ধরেই বিকল। কাজেই প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ফোন করেছেন বলে যে দাবি করছেন তা অসত্য।

উল্লেখ্য বাংলাদেশে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ‘লাল টেলিফোন’ ব্যবহার করেন।

লাল টেলিফোন বিকল থাকার প্রসঙ্গে দুজনের মধ্যে কয়েক দফায় প্রায় দশ মিনিট ধরে বাদানুবাদ হয়।

এরপর হরতাল প্রত্যাহার এবং গণভবনে আলোচনার আমন্ত্রণ প্রসঙ্গেও দুজনের মধ্যে দীর্ঘ সময় তিক্ত বাক-বিতন্ডা চলে।

খালেদা জিয়া ১৫ ই আগষ্ট কেন জন্মদিন পালন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে প্রশ্ন তুললে জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, "১৫ আগস্ট আমার জন্মদিন। আমি কেক কাটবই।"

২১শে আগষ্ট আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলার জন্য শেখ হাসিনা সেসময়ের বিএনপি সরকারকে দায়ী করলে প্রত্যুত্তরে খালেদা জিয়া বলেন, এই হামলা আওয়ামী লীগ নিজেরাই করিয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে অনেক বিতন্ডার পরও দুই নেত্রী আলোচনায় বসার একটি তারিখ নির্ধারণে একমত হতে ব্যর্থ হন।