বাংলাদেশে বিদেশী কূটনীতিকদের মধ্যে তৎপরতা বাড়ছে

fm briefing foreign diplomats
Image caption বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মত বিনিময় করেন ঢাকায় বিদেশী কূটনীতিকদের সঙ্গে

বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে দুই দলের পক্ষ থেকে বিশ্বাসযোগ্য তেমন কোন উদ্যোগ দেখা না গেলেও, বিদেশী কূটনীতিকদের মধ্যে তৎপরতা বাড়ছে।

রাজনৈতিক সংকট নিয়ে প্রভাবশালী কিছু দেশের দূতাবাসগুলোর কাছ থেকে নানা বক্তব্য-বিবৃতি আসছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও দেখা করছেন বিভিন্ন কূটনীতিকদের সাথে।

এমনকী এতদিন পর্যন্ত যে দেশটি বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সরাসরি কোন বক্তব্য এড়িয়ে চলেছে, সেই চীনের দূতাবাসও একটি বিবৃতি দিয়েছে।

ভারতের মনোভাব বুঝতে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনার দিল্লি সফরের নজিরও বিরল।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বিদেশী রাষ্ট্রের কূটনীতিকদের এ তৎপরতা কেন? রাজনৈতিক দলগুলোই বা তাদের মতামতকে কতটা গুরুত্বের সাথে নেয়?

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা প্রকাশ্যে নানারকম বক্তব্য রেখেছেন। বিশেষ করে দুই দলের মধ্যে সংলাপের তাগিদ দিয়ে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে এসব ক্ষমতাধর রাষ্ট্র কিংবা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের তৎপরতা এটিই প্রথম নয়।

বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের সময় এর আগেও দেখা গেছে বিভিন্ন দূতাবাসের এমন তৎপরতা।

কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে এই সক্রিয়তার কারণ ব্যাখ্যা করে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছিলেন, অনেকক্ষেত্রেই নিজ দেশের প্রতি বিভিন্ন দলের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে তারা এই ভূমিকা নিয়ে থাকে।

Image caption ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

ভারত বলেছে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে তারা আগ্রহী নয়।

এদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে চীনা দূতাবাসও।

এসব বক্তব্যের পেছনে প্রতিটি দেশের আলাদা কিছু স্বার্থ জড়িত রয়েছে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মোহসিন। তিনি বলছিলেন, এসব দেশের আঞ্চলিক নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব বিবেচনা করেই তারা এধরণের ভূমিকা রাখছে।

যদিও অনেক রাজনীতিবিদ বলে থাকেন, তারা অভ্যন্তরীন বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে। তবে এসময়েও দেখা যাচ্ছে, কূটনীতিকদের সাথে নিয়মিতই দেখা করছেন বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদেরা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান বলছেন, রাজনীতিবিদদের নমনীয়তার কারণেও এ সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সাবেক কূটনীতিকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর আগে যে প্রভাব ছিল, এখন তা অনেকাংশেই কমে গেছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মি. কবির বলছেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে অনেকটাই স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার কারণে, ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্ভরতা এখন আর আগের মতো নেই।