নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে যাচ্ছে সরকার

  • ৮ নভেম্বর ২০১৩
Image caption শেখ হাসিনার সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব বিএনপি প্রত্যাখ্যান করে

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন উপদেষ্টা নিশ্চিত করেছেন যে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগিয়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিবিসি বাংলাকে জানান, বর্তমান মন্ত্রীসভার সদস্যরা পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত নির্বাচনকালীন একটি মন্ত্রীসভা গঠিত হবে। তবে বিএনপি চাইলে এখনো মন্ত্রিসভায় অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

এদিকে বাড়ানো হয়েছে বর্তমান সংসদ অধিবেশনের মেয়াদও। চিফ হুইপ বলেছেন, সংসদের কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্যই অধিবেশন বাড়ানো হয়েছে, তবে তার মতে এটি বিরোধী দলের জন্যও একটি সুযোগ।

মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র

সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন করতে হবে ২৪শে জানুয়ারীর মধ্যে।

এরই মধ্যে মন্ত্রীসভার সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়া শুরু করেছেন। মন্ত্রীদের এই পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার সাথেই শুরু হলো প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা তৈরীর প্রক্রিয়া।

Image caption বিএনপি চাইলে মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে পারে: এইচ টি ইমাম

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলছেন, এরপর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেন এবং মন্ত্রীসভায় প্রয়োজনীয় রদবদলের মাধ্যমে সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রীসভা তৈরী করা হবে।

"প্রধানমন্ত্রী যাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেন, তাদের জানিয়ে দেবেন। আর যাদেরটা তিনি গ্রহণ করবেন না, অর্থাৎ যাদের রাখবেন তাদের আর শপথ নিতে হবে না। আর নতুন যারা মন্ত্রী হবেন, তাদের শপথ নিতে হবে।"

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই মন্ত্রীসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানা্চ্ছেন মি. ইমাম। এদিকে বাড়ানো হয়েছে সংসদের বর্তমান অধিবেশনের মেয়াদও।

সংসদ অধিবেশন

প্রাথমিকভাবে গত বৃহস্পতিবার অধিবেশন শেষ হবার কথা থাকলেও, আগামী রোববার আবারো বসবে সংসদ অধিবেশন।

সংসদের কার্যউপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক থেকে সংসদ অধিবেশন বাড়ানোর এ সিদ্ধা্ন্ত নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। সংসদে সরকারদলীয় চিফ হুইপ আব্দুস শহীদ বলছেন, সংসদের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্যই সংসদ অধিবেশন বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে নির্দলীয় সরকারের দাবীতে টানা হরতালের মতো কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছে বিএনপি। তাদের এই দাবী পূরণের জন্য প্রয়োজন হবে সংবিধান পরিবর্তন।

এসময়ে সংসদ অধিবেশন বাড়ানো বিরোধী দলের দাবী পূরণের জন্য একটি সুযোগ কিনা? চীফ হুইপ মি. শহিদ বলছেন, বিরোধী দল যদি মনে করে তারা এখনো সংসদে তাদের প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারে।

"আমার মনে হয় বিরোধীদলের উচিত হবে সংসদে যোগ দিয়ে তাদের প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগের সদ্ব্যাবহার করা।"

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলছেন, বিরোধী দল না আসলেও সর্বদলীয় সরকার গঠন করা হবে। তবে মন্ত্রিসভা গঠনের আগ পর্যন্ত বিরোধী দল চাইলে মন্ত্রীসভায় যোগদানের সুযোগ এখনো আছে।

"বিএনপি যদি এখনো মন্ত্রিপরিষদ গঠনের আগেই বলেন আমরা আসবো এবং যোগদান করবো, তাহলে তাদের জন্য সেই সুযোগ থাকলো।"

সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই শেষ হবে সংসদের অধিবেশন এবং সরকার বলছে, এরই মধ্যে গঠিত হয়ে যাবে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভাও।

যদিও বিরোধী দলকে এখনো সংসদে এসে প্রস্তাব দেয়ার কথা বলছে সরকার, তবে বিএনপি রাজপথেই তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর সর্বদলীয় সরকারেও যোগদানের কোন সম্ভাবনা এখনো বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না।