নির্বাচনী অনিশ্চয়তার মধ্যেই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু

  • ১০ নভেম্বর ২০১৩

বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন একটি নির্দলীয় সরকারের দাবিতে দেশটির প্রধান বিরোধী দল যখন মাঠের আন্দোলনে রয়েছে, তখন আগামী জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে দলের আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে আজ রোববার থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

বিরোধী দল বিএনপি অভিযোগ করছে, সরকার বর্তমানে দেশের প্রধান বিবদমান ইস্যুটির সমাধান না করেই নির্বাচন করার সব প্রস্তুতি নিচ্ছে, তার মানে দাঁড়াচ্ছে, তারা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকার যে পরিকল্পনা করছে সেটি বাস্তবায়নের দিকেই তারা এগিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির দফায় দফায় হরতালের কারণে যখন রাজধানী ঢাকা প্রায় অচল তখন চারদিনের হরতালের শুরুর দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায় দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র।

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় এসে জড়ো হওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলে দলে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নানা শ্লোগান দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে।

সেখানে নৌকা-সদৃশ একটি বিশালাকায় প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে এখানে হরতাল বিরোধী নানা কর্মসূচি হলেও আজ সেখানে দেখা গেলো ভিন্ন একটা ছবি।

সেখানে উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ।

আজ থেকেই আওয়ামী লীগ শুরু করেছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য দলের আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী মনোনয়ন ফর্ম বিক্রির কার্যক্রম।

দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার জন্য একটি ফর্ম কিনে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এসময় মি. ইসলাম বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও আওয়ামী লীগের মতো এ ধরনের কর্মসূচি অচিরেই শুরু করবে বলে তিনি আশা করছেন।

Image caption আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনার জন্যে মনোয়নপত্র কিনছেন দলের সাধারণ সম্পাদক

তিনি বলেন, "সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বাংলাদেশে। গণতন্ত্রে নির্বাচন ছাড়া সরকারে গঠনের কোনো উপায় নেই। সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে আমরা অনুরোধ করবো গণতন্ত্রের প্রতি শদ্ধা রেখে আপনারাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন।"

মনোনয়নপত্র কিনতে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা-এমপি-মন্ত্রীরা যেমন এসেছিলেন, তেমনি এসেছিলেন, তৃনমূলের নেতারাও।

আগ্রহী প্রার্থীদের সবার সাথেই ছিল কর্মী আর সমর্থকদের বিরাট বিরাট দল।

এরকম একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ফারুক খান।

বিরোধী দল যখন নির্বাচনে না আসার ঘোষণা দিচ্ছে, তখন এই সমস্যাটা সমাধান করার আগেই কেন তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিচ্ছেন এই প্রশ্নে জবাবে মি. খান বলেন, “বিরোধী দল নির্বাচনে না এলে বাংলার মানুষ তার জন্যে বসে থাকবে না। গণতন্ত্র তাদের জন্যে বসে থাকবে না।”

মি খান বলেন, “বিএনপিও নির্বাচনের কাজ শুরু করেছে বলে আমি জানি। তারা উপরে উপরে বলছে কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা নির্বাচনের জন্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

বিরোধী দল বিএনপি বলছে, সরকারি দলের এই কর্মসূচিই প্রমাণ করছে, তারা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকবার যে পরিকল্পনা করেছে সেটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “জনগণের ইচ্ছা অনিচ্ছাকে তারা কখনোই গুরুত্ব দেয়নি। নীল নকশা অনুযায়ী সবকিছু চলছে।”

তিনি বলেন, “প্রহসনের জন্যে, সময়ক্ষেপনের জন্যে তারা সংলাপের কথা বলছে।অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করুক এটা তারা চান না।”

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই রাজপথের আন্দোলনে রয়েছে বিএনপি, একই দাবিতে তাদের চারদিনের একটি হরতাল কর্মসূচীর প্রথম দিন চলছে আজ।

এমনকি গত দু’সপ্তাহেও তারা তিনদিন করে ছ’দিন হরতাল পালন করেছে।

এবং সবশেষ এই হরতাল কর্মসূচীটি ঘোষণা করার পর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।