চারদিনের হরতালের শুরুতে ১ জন নিহত

  • ১০ নভেম্বর ২০১৩
Image caption হরতালে বোমাবাজি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে

বাংলাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা চারদিনের হরতালের শুরুতে সকালে চট্টগ্রামে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারি থানা পুলিশ জানিয়েছে, হরতাল সমর্থকদের দেখে একটি অটোরিকশা জোরে চালিয়ে পালানোর সময় গাড়ি উল্টে এক ব্যক্তি আহত হন। পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান।

দিনের প্রথমভাগে ঢাকায় বোমাবাজির আর বাসে আগুন দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাবনায় রেললাইন উপড়ে ফেলা হয়েছে।

ঢাকায় র‍্যাব, পুলিশের বিপুল উপস্থিতি দেখা গেছে।

ভোর থেকেই ঢাকায় হরতাল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বিবিসি’র সংবাদদাতা আহরার হোসেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তিনি জানিয়েছেন, অন্যান্য দিনের হরতালের সকালে রাস্তায় যে সংখ্যায় মানুষ বা যানবাহন লক্ষ্য করা যায়, তুলনামূলকভাবে আজ তা আরও কম।

ঢাকার রাস্তায় হরতাল সমর্থকদের উপস্থিতি সকালের দিকে দেখা যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঢাকার কোন কোন এলাকা থেকে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

সকালের দিকে মিরপুরে একটি বাসে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। লালবাগে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বাসার সামনে থেকে ঘুরে এসে আহরার জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাসার সামনে নিরাপত্তার যে কড়াকড়ি ছিল তা এখন শিথিল করা হয়েছে।

Image caption হরতালে বিপুল সংখ্যায় নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে

সকাল সোয়া সাতটা নাগাদ পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী প্রটোকল মোতাবেক বিরোধী দলীয় নেতার জন্য যে সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকার কথা, এখন কেবল সেই নিরাপত্তাকর্মীরাই পাহারা দিচ্ছেন খালেদা জিয়ার বাসভবন।

অন্যান্য হরতালের দিনে সকাল বেলাতেই বিএনপি কার্যালয়ে ব্যাপক কর্মী-সমর্থক এসে হাজির হলেও আজ সে দৃশ্য নেই।

সকাল থেকেই বিএনপি অফিসের মূল ফটকটি তালা বন্ধ রয়েছে। তবে, বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবীতে রোববার থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচীর ঘোষণা দেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোট।

তবে হরতাল ঘোষণার পরপর শুক্রবার রাতে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ, এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং শিমুল বিশ্বাসকে পুলিশ আটক করে। শনিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।

এই পাঁচজনকে আটক করার প্রতিবাদে ৭২ ঘন্টার হরতালের সময়-সীমা আরও ১২ ঘণ্টা বাড়িয়ে চারদিন করা হয়।