বাংলাদেশে মজুরি নিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ

  • ১১ নভেম্বর ২০১৩

বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পে নূন্যতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করার দাবিতে আবারো পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ হয়েছে।আশুলিয়া এলাকায় বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

মজুরী নিয়ে বিক্ষোভ এখন 'নিয়মিত বিষয়'

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যাবহার করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এর পরই আশুলিয়া এলাকায় প্রায় ১০০ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়।

পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৩০ জনের মতো শ্রমিক আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা।

শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, সকালের দিকে আশুলিয়া শিল্প অঞ্চলের বেশ কিছু কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

শ্রমিকদের একটি অংশ কিছু কারখানায় ঢিল ছুড়তে থাকে। তাদের বাধা দিলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তবে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলছে তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাধা দেয়াতেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

বিক্ষোভের পর এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। তবে দুপুরের পর তা তুলে নেয়া হয়েছে।

গত সোমবার বাংলাদেশে গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের জন্য নূন্যতম মজুরি ৫৩০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে সরকারের গঠিত মজুরি বোর্ড। তা প্রত্যাখ্যান করেছে মালিকপক্ষ এবং শ্রমিকদের একাংশ।

বিক্ষোভের মুখে প্রায়ই কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়

আশুলিয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি কারখানা অনন্ত গার্মেন্টস লিমিটেডের মালিক এনামুল হক খান অভিযোগ করেন, যে মজুরি বোর্ডের সুপারিশের পর থেকে আশুলিয়া এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং কারখানা বন্ধ রাখা একটি নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

“শ্রমিকরা কাজে এসে শুধু হাজিরা নিশ্চিত করে বেরিয়ে পড়ে কিন্তু মাস শেষে বেতন দিতে হয় পুরোটাই”, তিনি বলেন।

এরই মধ্যে মজুরির প্রস্তাবকে গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়। আর সেটাতে ১৫ দিনের মধ্যে আপত্তি না দিলে প্রস্তাবিত মজুরি আনুষ্ঠানিক রূপ নেবে।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মজুরি বোর্ডে আপত্তি পেশ করে নি কোন পক্ষই। পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ আজিম বলছেন, আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানানোর সময় রয়েছে ২১ তারিখ পর্যন্ত।

“শ্রম মন্ত্রণালয়ে আজই গিয়েছিলাম, তারা ২১ তারিখের মধ্যে একটি ঘোষণা দেবেন। ঐ সময় পর্যন্ত শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তারা কাগজও পাঠিয়েছেন”, মি: আজিম বলেন।

তিনি জানিয়েছেন ৫৩০০ টাকা মজুরির প্রস্তাবে তাদের আপত্তি বহাল রয়েছে। এদিকে ঐ মজুরি প্রস্তাবের সিদ্ধান্তে বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধিরা হ্যাঁ ভোট দিয়েছিলেন।

তারপরও শ্রমিকদের একাংশের আট হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

আন্দোলনের প্রতিনিধিত্বকারী একটি শ্রমিক সংগঠনের নেতা মোশরেফা মিশু অভিযোগ করেন, যে মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধিরা ক্ষমতাসীন দলের সদস্য।

“তাদের আমরা শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার আহবান জানিয়েছিলাম কিন্তু তাদের সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়নি,” তিনি বলেন।

এদিকে কাল কারখানা খুলে দেয়া হবে কীনা তা পরিস্থিতি বিবেচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানাচ্ছেন মালিকরা।