বন্ধ হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ বিশেষ পাসপোর্ট

বাংলাদেশে যাতায়াতের জন্য ভারত যে বিশেষ পাসপোর্ট দিত তার নাগরিকদের, সেই ব্যবস্থা ১৫ নভেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ পাসপোর্টের চাহিদা কমে যাওয়া ও দুই দেশের মধ্যে এবছরই সাক্ষরিত নতুন যাতায়াত ব্যবস্থার চালু হয়ে যাওয়ার কারণে বিশেষ পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক বলছে ১৫ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ পাসপোর্টের জন্য নতুন করে আর আবেদন নেওয়া হবে না। তবে চালু বাংলাদেশ পাসপোর্টগুলি যতদিন বৈধ থাকবে, ততদিন সেগুলো ব্যবহার করা যাবে। আর ওই সময়সীমার মধ্যে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরাও বাংলাদেশ পাসপোর্ট পেতে পারবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্মকর্তা ও কলকাতার আঞ্চলিক পাসপোর্ট আধিকারিক গীতিকা শ্রীবাস্তব বিবিসিকে বলেন, “এবছরের গোড়ার দিকে ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে নতুন যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে – সেই চুক্তি অনুযায়ী বিশেষ ভারত-বাংলাদেশ পাসপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়াও, বিশেষ পাসপোর্টের চাহিদা আগের থেকে অনেক কমে গেছেউ শুধুই বাংলাদেশের জন্য পাসপোর্ট করাতে চান না অনেকেই – আন্তর্জাতিক পাসপোর্টই করাতে চান বেশিরভাগ মানুষ।“

তবে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর মানুষদের একাংশ বলছেন বিশেষ বাংলাদেশ পাসপোর্ট ব্যবস্থা তুলে দিলে অসুবিধায় পড়বেন সাধারন গ্রামের মানুষ।

মালদা জেলার বাসিন্দা মহম্মদ এজাজুল হক – যিনি সম্প্রতি ছেলের জন্য বাংলাদেশ পাসপোর্টের আবেদন করেছেন, তিনি বিবিসি-কে বলছিলেন, “বাংলাদেশ যাওয়ার জরুরী প্রয়োজন পড়লে খুব কম সময়ে বাংলাদেশ পাসপোর্ট পাওয়া যেত। জেলা সদর থেকেই সেটা পাই। কিন্তু আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট পেতে গেলে অনেক হয়রানি হতে হয়, সময়ও অনেক লাগে। বিশেষ পাসপোর্ট বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের খুব অসুবিধা হবে। আমাদের মতো যাদের বাংলাদেশে প্রচুর আত্মীয়-স্বজন আছে, কাজে কর্মে প্রায়ই যেতে হয়, তাদের পক্ষে এই সিদ্ধান্তে ক্ষতি হল।”

১৯৭২ সালে এক বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের সুবিধার জন্য চালু হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ পাসপোর্ট। তখন নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশে নিয়মিতই যেতে হত সীমান্ত অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্রের কথায়, এখনও আনুমানিক ২০ হাজার বৈধ ভারত-বাংলাদেশ পাসপোর্ট রয়েছে।

নিয়মিত ভারতীয় পাসপোর্ট যেমন দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রক, এই বিশেষ পাসপোর্ট দেওয়ার অধিকার ছিল পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় সহ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্য সরকারগুলির। আর জেলার সদরের স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকেই পাওয়া যেত এই পাসপোর্ট – আর নিয়ম কানুনও ছিল অনেকটাই সহজ।

ভারতে এখন পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে হয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে – গ্রামের মানুষদের কাছে সেই ব্যবস্থা এখনও অজানা। তাই তাঁরা এবার কীভাবে বাংলাদেশের আত্মীয়-পরিজনের কাছে যাবেন – সেই নিয়ে চিন্তিত অনেকেই।