শ্রীলংকার বির্তকিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে শেখ হাসিনা

  • ১৩ নভেম্বর ২০১৩
শুক্রবার কলম্বোয় শুরু ২০১৩র কমনয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন

আগামী শুক্রবার থেকে শ্রীলংকায় শুরু হচ্ছে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের তিনদিনের সম্মেলন।

দেশটিতে তামিল বিদ্রোহ দমন ও গৃহযুদ্ধের সময় শ্রীলংকার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠায় সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে না ক্যানাডা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীও নিজে যাচ্ছেন না, যদিও ভারতীয় একটি প্রতিনিধি দল সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলনে যোগ দিতে এমন এক সময়ে কলম্বো যাচ্ছেন যখন স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার চলছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলেছেন, কমনওয়েলথের আমন্ত্রণেই প্রধানমন্ত্রী শ্রীলংকায় যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনা সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার কলম্বো যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলছেন সামিট শ্রীলংকায় হলেও তা হচ্ছে কমনওয়েলথের এজেন্ডা অনুযায়ী।

“শ্রীলংকার কোন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে এই সম্মেলনের এজেন্ডার উপর প্রভাব সমীচীন হতে পারেনা। ভারতের যারা শ্রীলংকায় থাকেন তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছে সম্মেলনে না যাওয়ার বিষয়ে। ক্যানাডাতেও তাই। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর না যাওয়ার ক্ষেত্রে এমন কোন চাপ বা অনুরোধ নেই।”

মিঃ চৌধুরী বলেন, “অন্য কোন্‌ দেশের সরকারপ্রধান সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন সেটি বাংলাদেশের যোগদানের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় নয়।”

শ্রীলংকায় তামিলদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে যে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে তামিল বিদ্রোহ দমনে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন।

কমনওয়েলথ সম্মেলন বয়কট করতে লন্ডনেও চলছে প্রতিবাদ বিক্ষোভ

ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এ বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ প্রভাবশালী রাজ্য তামিলনাড়ুর অধিবাসীরা অধিকাংশই তামিল। যাদের অনেকেই মনে করেন শ্রীলংকায় তামিল বিদ্রোহ দমনের নামে মূলত যুদ্ধাপরাধ করেছে সরকারি বাহিনী।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজে না গিয়ে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছেন সম্মেলনে। যদিও এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে শ্রীলংকার সরকারের পক্ষ থেকে।

এ ধরনের একটি বিতর্কের মুখে সম্মেলনে বাংলাদেশের যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিক দিকটি নাকি শুধুই দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় স্বার্থ গুরুত্ব পেয়েছে - এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান বলেন বাংলাদেশ নিজেই এখন যুদ্ধাপরাধ বা বড় মাপের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার করছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই মুহুর্তে প্রধানমন্ত্রীর শ্রীংলকায় যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

“যে কারণে ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন না সেটা বৈধ। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী যেহেতু যাচ্ছেন না তাই সম্মেলনের গুরুত্ব কমে যাবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী না গেলেও পারতেন। এ সম্মেলন নিয়ে তেমন একটা আলোচনাও হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রীর যাওয়াটা সময়োপযোগী হয়নি।”

মিঃ শাহীদুজ্জামান আরও বলেন সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উচিত যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরা যাতে বিশ্বব্যাপী এধরনের অপরাধ কমানোর বিষয়টি আরও জোরদার হয়, সেটি যে দেশেই সংঘটিত হোক না কেন।

তবে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই তার অবস্থান পরিস্কার করেছে। তবে শ্রীলংকার বিষয়টি অভ্যন্তরীণ উল্লেখ করে তিনি বলেন এ বিষয়ে শ্রীলংকার জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।

তিপ্পান্নটি দেশের জোট কমনওয়েলথের সরকার প্রধানদের এবারকার বৈঠকের প্রতিপাদ্য হচ্ছে সমতার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ও সামগ্রিক উন্নয়ন।

অসুস্থতার জন্য সম্মেলনে যোগ দিতে পারছেন না ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তার পরিবর্তে ব্রিটেনের প্রতিনিধিত্ব করছেন যুবরাজ চার্লস।