ফিলিপিন্সে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি

philippines
Image caption ঝড়ে বিধ্বস্ত ফিলিপিন্স

ফিলিপিন্সের সরকার ঘূর্নিঝড় হাইয়ানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সাহায্য পৌঁছানো নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর মন্ত্রী সভার সচিব রেনে আলমেনড্রাসের এই মন্তব্য করেন।

মি. আলমেনড্রাস বলেছেন দেশটি সর্বকালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে যেখানে আক্রান্তদের কাছে পানি , খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার জন্য রীতিমত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাঠানো একটি সাহায্য টাকলোবান বিমানবন্দরের পথে রয়েছে।

ফিলিপিন্সের মন্ত্রীসভার সচিব মি. আলমেনড্রাস বলেন ফিলিপিন্সের ইতিহাসে আমরা এত বিপুল পরিমাণের সাহায্য সরবরাহের কাজ কখনো করিনি।

ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে যে পরিমাণে, খাবার, চাল ও বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য সরবরাহের জন্য যেভাবে কাজ চলছে তা আগে কখনোই হয়নি।

তিনি ঘূর্নিঝড় হাইয়ানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সাহায্য পোঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

মি. আলমেনড্রাস বলেন "আমরা এমনকি প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীকেও খাবার প্যাকেটজাত ও তা সরবরাহের কাজে লাগাচ্ছি। এটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে"।

শুক্রবার এই টাইফুনের আঘাতে শুধু বাড়িঘর নয়, সরকারি অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা - সবই মাটির সাথে মিশে গেছে।

ফলে দুর্গত লোকদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া এখন এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক একটি সাহায্য বহর ফিলিপিন্সের টাকলোবান বিমান বন্দরের পথে রয়েছে।

ঘূর্নিঝড়ে শহরটির অধিকাংশ এলাকা একেবারে ধংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভেলেরি অ্যামস যিনি বর্তমানে টাকলোবানে রয়েছেন, তিনি বলছেন পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে সেখানে মানুষ পাঁচ দিন ধরে খাবার পানি ও খাদ্য ছাড়া রয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের বিজ্ঞানীরা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবই এই টাইফুন হাইয়ান।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিং বিবিসি কে বলেছেন পঞ্চম ক্যাটাগরির এই ঘূর্নিঝড় একশো বছরে একবার আঘাত হানার কথা, সেখানে একি অঞ্চলে এক মাসে এমন ঝড় দুবার আঘাত হানলো।

অতএব জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আর উপেক্ষা করা চলে না