ভারতীয় সম্পাদকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

  • ২১ নভেম্বর ২০১৩
Image caption অভিযুক্ত তরুন তেজপাল

ভারতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আর ‘স্টিং অপারেশনে’র পথিকৃৎ বলে ধরা হয় যে তহলকা ওয়েবসাইট আর ম্যাগাজিনকে – তার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ওঠার পর তিনি তার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন।

মি. তেজপাল তহলকারই এক মহিলা কর্মীর সঙ্গে গোয়াতে অসদাচরণ করেছিলেন – এই অভিযোগের পটভূমিতেই তহলকার সম্পাদকের দায়িত্ব তিনি থেকে ছ’মাসের জন্য অব্যাহতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

কিন্তু তাঁর নিজের ঠিক করা এই শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছেন ভারতের নারী আন্দোলনের নেত্রীরা, পাশাপাশি ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন ও গোয়ার রাজ্য সরকারও মি. তেজপালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে।

অভিযোগ

অভিযোগ হল অধস্তন এক মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে যৌন অসদাচরণের!

এই ঘটনার কথা প্রথম জানাজানি হয় বুধবার যখন তরুণ তেজপাল নিজেই তহলকার সব কর্মীকে ইমেইল করে বলেন সম্প্রতি একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় তিনি মোটেই বিচক্ষণতা দেখাননি, আর সেজন্য তিনি আগামী ছ’মাসের জন্য সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।

তবে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটা কী, সেটা তিনি ভেঙে বলেননি।

কিন্তু ঘটনাটা যার সঙ্গে ঘটেছিল, সেই মহিলা সাংবাদিকের ঘনিষ্ঠজনরা এর পরই ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোতে এসে জানিয়ে দেন – গোয়াতে তহলকারই বার্ষিক কনক্লেভের সময় ঘটনাটা ঘটেছিল, এবং দাবি করেন সেখানে ওই মহিলাকে মি. তেজপালের হাতে চরম যৌন নিগ্রহের শিকার হতে হয়।

এই অভিযোগ নিয়ে কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি, নির্যাতিতা মহিলার পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।

ক্ষোভ

গোটা ঘটনায় তরুণ তেজপাল নিজেই নিজের শাস্তি কী হবে সেটা ঠিক করেছেন, তাতে ভারতের সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কগুলোতে আক্রমণের নিশানা হয়ে উঠেছেন তিনি।

মি. তেজপাল ভারতে অত্যন্ত ডাকসাইটে ও সুপরিচিত সাংবাদিক – নৈতিকতা ও সততার পরাকাষ্ঠা নিয়ে এতদিন বহু স্টোরি করেছেন, কিন্তু ঠিক সেই নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেই তাঁকে ফেসবুক বা টুইটারে বিঁধেছেন অসংখ্য মানুষ।

অনেকেই বলেছেন, যিনি নিজে দোষ করেছেন – তিনিই ঠিক করছেন নিজের শাস্তি কী হবে, সেটা কেমন ব্যাপার?

জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন মমতা শর্মা নিজেও এরকমই একটা টুইট করেছেন।

মি. তেজপালের ইমেইলের পর তহলকা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিলেন ব্যাপারটা মিটমাট হয়ে গেছে – কিন্তু নির্যাতিতা ওই মহিলা সাংবাদিক, তার মুখপাত্র তথা মহিলা আন্দোলনের একজন অগ্রণী নেত্রী কবিতা কৃষ্ণনের মারফত সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, মি তেজপাল যে শাস্তি বেছে নিয়েছেন কিংবা তহলকা কর্তৃপক্ষ গোটা ঘটনায় যে ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন তাতে তিনি মোটেই খুশি নন!

একাধিক তদন্ত

গোয়া সরকারের ঘোষণাও গোটা বিতর্কে একটা ইন্টারেস্টিং মোড় এনে দিয়েছে।

মনে রাখতে হবে, তরুণ তেজপাল প্রথম পাদপ্রদীপে এসেছিলেন যে স্টিং অপারেশনের হাত ধরে, তাতে বিজেপি দলের তৎকালীন সভাপতি বঙ্গারু লক্ষ্মণকে ঘুষের টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল – যার জেরে চরম অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপির তখনকার সরকার।

আর আজ তরুণ তেজপাল যখন বেকায়দায় – তখন গোয়ার বিজেপি-শাসিত রাজ্য সরকারও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তর নির্দেশ দিয়েছে।

গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর বলেছেন, এই কথিত অপরাধটা যেহেতু গোয়াতেই ঘটেছে, তাই সেটা তদন্ত করার পূর্ণ এক্তিয়ার তার সরকারের আছে।

এর পাশাপাশি দিল্লিতে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য নির্মলা সাওয়ান্ত – তিনিও বিবিসিকে জানিয়েছেন যে কমিশনে কোনও অভিযোগ জমা পড়ুক বা না-পড়ুক – তারাও স্বত:প্রণোদিতভাবে এই অভিযোগের তদন্ত করবেন।

ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে সাংবাদিক তরুণ তেজপালকে এখন এই ঘটনায় একাধিক তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে!