নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের কার্যপরিধি কি হবে?

  • ২৩ নভেম্বর ২০১৩

বাংলাদেশের পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা কাল থেকে নিজ নিজ দপ্তরে কাজ শুরু করবেন।

মন্ত্রিসভার এই পুনর্গঠন মূলত সরকারের ভাষায় একটি সর্বদলীয় নির্বাচন-কালীন সরকার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগের অংশ। কিন্তু নতুন এই মন্ত্রিসভার সদস্যদের কার্যপরিধি কি হবে?

প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলছেন, তারা করবেন মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজ আর এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকগুলোতে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোও তারা বাস্তবায়ন করবেন।

তবে রবিবার নির্বাচন-কালীন একটি আচরণবিধি প্রকাশ হবার সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে মিস্টার ইমাম বলছেন সেটা প্রকাশিত হলেই আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে, কে কি করতে পারবেন আর কি করতে পারবেন না।

মন্ত্রিসভার পুরনো কিছু সদস্যকে বাদ দিয়ে এবং নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে সরকারী গেজেট প্রকাশিত হয় গত বৃহস্পতিবার। এরপরই বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি শুরু হয়।

দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে রবিবার শুরু হবে নতুন সপ্তাহের কর্ম-দিবস। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত দু-একজন মন্ত্রী এর মধ্যে নানাভাবে নিজেদের দাপ্তরিক দায়িত্ব বুঝে নেবার চেষ্টা করেছেন। তবে তাদের আনুষ্ঠানিক কর্ম-দিবস শুরু হচ্ছে কাল থেকেই।

নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে একজন, আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা আমির হোসেন আমু তিনি এখনো পর্যন্ত তাঁর দপ্তরে যান নি। তবে তাঁর ধারণা তারা কেবল রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, তারা একটি নির্বাচনী আচরণবিধি রবিবারই প্রকাশ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলছেন এর আগে আগে সংসদে পাশ হওয়া জনপ্রতিনিধি আইন বা আরপিওর সংশোধনী এবং নির্বাচনী আচরণবিধি এই দুটোতেই প্রশাসন এবং সরকারের নির্বাচন-কালীন কার্যপরিধি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়া থাকবে।

তিনি বলেন, “যেদিন তফসিল ঘোষণা হবে সেদিন থেকে নির্বাচনী ফলের গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা পর্যন্ত সময়টা হচ্ছে নির্বাচন-কালীন সময়। এ সময় মন্ত্রিসভা কেবল দৈনন্দিন কাজকর্ম করবে। কোন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, যেটি পরবর্তী সরকারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বা যার কোন অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা থাকতে পারে, সেরকম কিছু এই সময়ে মন্ত্রিসভা আলোচনা করবে না।”

কিন্তু বাংলাদেশের এই নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে বহুল আলোচিত একটি চুক্তি ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপরাশেন ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ বা টিকফা সই করার জন্য ওয়াশিংটনের পথে রয়েছেন বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

সোমবার যখন তারা এই চুক্তি সই করবেন, ততক্ষণে মিস্টার ইমামের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার কথা, এমনকি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে যাবারও জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

ওদিকে সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি বিষয়ক একটি পে কমিশনও রবিবার ঘোষণা হতে পারে, এমন বক্তব্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত। নির্বাচন-কালীন সরকার কি এসব সিদ্ধান্ত নিতে পারে?

এ প্রশ্নের উত্তরে এইচটি ইমাম জানান, স্থায়ী জাতীয় পে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় অনেক আগে। এখন কেবল এই কমিশনে কারা কারা থাকবেন সেটাই ঘোষণা করা হবে। আর টিকফা চুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক অনেক আগেই সই হয়ে গেছে। সেটিই এখন চুক্তি আকারে সই করতে গেছেন বাণিজ্য সচিব।”

এইচ টি ইমাম বলেন, "এগুলো নতুন কিছু নয়। যেগুলো আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, বা অনুমোদন পেয়ে গেছে সেগুলো বাস্তবায়নকে রুটিন কাজ হিসেবেই গণ্য করা যায়।”