মেয়েকে হত্যার জন্য বাবা-মা দোষী সাব্যস্ত

  • ২৫ নভেম্বর ২০১৩
talwar family
Image caption রাজেশ ও নূপুর তলোয়ার

ভারতে সাড়ে পাঁচ বছর আগে একটি সাড়া-জাগানো হত্যাকাণ্ডের মামলায় নিহত কিশোরীর বাবা-মাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত।

দিল্লির উপকণ্ঠে নয়ডার অভিজাত এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে প্রথমে আরুশির মৃতদেহ ও তার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ওই ফ্ল্যাটেরই ছাদ থেকে তাদের অনেক বছরের গৃহপরিচারক হেমরাজের মৃতদেহ উদ্ধার – এই জোড়া হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে যে পরিমাণ নিউজপ্রিন্ট আর এয়ারটাইম খরচ হয়েছে তার নজির বিরল।

দফায় দফায় তদন্ত, আদালতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য ও দীর্ঘ শুনানির শেষে বিচারক সোমবার রায় দেন, দোষী আরুশির বাবা-মা।

তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের একজন আইনজীবী জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ হয়তো পারিপার্শ্বিক ছিল, কিন্তু আদালত এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন যে এই হত্যা তলোয়ার দম্পতি ছাড়া আর কারও পক্ষে করা সম্ভব নয়।

তার বক্তব্য, তদন্তেরও অনেক ধাপ থাকে, ওঠাপড়া থাকে – কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিবিআই রাজেশ ও নূপুর তলোয়ারকে দোষী চিহ্নিত করে যে রিপোর্ট দিয়েছে, আদালত সেটাই মেনে নিয়েছে।

হত্যাকাণ্ড নিয়ে ক্রিমিনোলজিস্ট

কিন্তু কী এমন ঘটতে পারে, যখন বাবা-মা নিজের একমাত্র সন্তানকে পর্যন্ত হত্যা করতে পারেন?

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ক্রিমিনোলজিস্ট হিসেবে বহুদিন যুক্ত ছিলেন ড: তপন চক্রবর্তী – আরুশি মামলায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাক্ষ্যও দিয়েছেন তিনি।

বিবিসিকে ড: চক্রবর্তী বলছিলেন, "সমাজের একেবারে উঁচুতলায় বিকৃত যৌনতা-সহ নানা ধরনের অভ্যাস, একমাত্র মেয়েকে বাড়িতে রেখে ক্লাবে যাওয়া এবং অনেক বেশি রাতে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ফেরা – বাবা-মার এসব আচরণের বিরাট মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে সন্তানের ওপর!"

এক্ষেত্রে মেয়েটি যেহেতু বয়:সন্ধিতে ছিল – তাই এর জেরে সে নিজেও নানা অবৈধ কাজকর্মে জড়িয়ে পড়েছে, অথবা বাড়ির পরিচারক বা অন্য কারও সাথে সম্পর্ক তৈরি করেছে – এমনটাও হওয়া সম্ভব বলে ড: চক্রবর্তীর ধারণা।

অপরাধ-বিশেষজ্ঞ তপন চক্রবর্তীর মতে, নানা কারণেই মি ও মিসেস তলোয়ার এমন চরম পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারেন।

হয়তো তারা পরিচারকের সঙ্গে নিজের মেয়েকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেছিলেন। আবার উল্টোদিকে এমনটাও হতে পারে আরুশি হয়তো তার বাবা-মার এমন কিছু গোপন কথা জেনে ফেলেছিল যেটা সামাজিক বা পারিবারিকভাবে তাদের পক্ষে চরম অসম্মানজনক হত।

সম্ভাবনা আসলে অনেকগুলোই, এবং জোড়া হত্যার পুরো ঘটনাপরম্পরা এখনও স্পষ্টও নয়। তবে আজকের রায়ের পর তলোয়ার দম্পতির আইনজীবী সত্যকেতু সিং জানিয়েছেন – তার মক্কেলরা ভেঙে পড়েছেন এবং এই আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন।

অধীর উৎকণ্ঠায় থাকা গোটা দেশ অবশ্য আরুশি-হেমরাজের হত্যাকারী কারা, আপাতত তার একটা উত্তর পেয়েছে – আর বিকেলেই ডাসনা জেলে পাঠানো তলোয়ার দম্পতি প্রস্তুতি শুরু করছেন তাদের পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের!