আসামে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের জবাবদিহিতার দাবি

Image caption মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতে নারী আন্দোলনকারীরা সরব

উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্য আসামে এক মহিলাকে গণধর্ষন করে হত্যার ঘটনায় সেই রাজ্যের পুলিশকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে জবাবদিহি করতে বলেছে ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন।

এর আগেই স্বত:প্রণোদিত হয়ে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আসামের মহিলা কমিশন।

একই সঙ্গে আজ বুধবারও ঘটনাস্থল – লখিমপুর জেলার বোগানাদিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে।

আসামের মহিলা কমিশন জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ওই ঘটনার বিবরণ দেখে তারা নিজেরাই গণধর্ষণ ও হত্যার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে লখিমপুরের জেলা পুলিশ প্রশাসনকে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ অবশ্য দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা ছাড়া আর কিছু করে উঠতে পারে নি।

গত শুক্রবার ৩১ বছর বয়সী ওই মহিলাকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার পাঁচদিন পরেও কেন অপরাধীদের চিহ্নিত করা গেল না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মহিলা কমিশনের প্রধান মীরা বরুয়া।

বোগানাদিতে বিক্ষোভরত বিভিন্ন সংগঠনও একই প্রশ্ন তুলে বলছে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করা তো দূরে থাক, অপরাধীদের বা অটো রিক্সাটিকেও চিহ্নিত করতে পারে নি।

Image caption দিল্লিতে গণধর্ষণ নিয়ে মহিলাদের ব্যাপক প্রতিবাদের পরেও ভারতে মহিলাদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে

ময়না তদন্তের রিপোর্টও পুলিশ আনতে পারে নি বলে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ তুলছে।

বুধবার দুপুরে বোগানাদি থানা ঘেরাও করেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁরা বলছেন যে মঙ্গলবার পুলিশ তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিল ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করবে। কিন্তু দুদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তদন্তে কোনও অগ্রগতি হয় নি।

সন্ধ্যায় বোগানাদিতে মোমবাতি মিছিল করেছে সারা আসাম ছাত্র সংস্থা বা আসু।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশের কাছে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তাতে অভিযোগ করা হয়েছে গত শুক্রবার বোগানাদির ওই মহিলা তাঁর ৬ বছরের বাচ্চাকে স্কুল থেকে আনতে যাওয়ার জন্য একটি অটো রিক্সায় ওঠেন। ওই চলন্ত অটো রিক্সাতেই তাকে গণধর্ষণ করে চার জন আর তার পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কোপানো হয়, তার চোখ উপড়ে ফেলা হয় আর সবশেষে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

বোগানাদি থানা থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে ওই মহিলাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় অধিবাসীরাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই গত রবিবার মৃত্যু হয় ওই মহিলার।

মহিলা সমাজকর্মীরা বলছেন দিল্লির চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দোষীদের ফাঁসির সাজা হওয়া স্বত্বেও মহিলারা যে দিনে দুপরেও নিরাপদ নন, লখিমপুরের ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে।