বাংলাদেশে বুধবারেও নিহত অন্তত ৭, অবরোধ বেড়েছে

অবরোধ
Image caption রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা

বাংলাদেশে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ডাকা ৪৮ ঘন্টার অবরোধের আজ দ্বিতীয় দিনেও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

দ্বিতীয় দিনের সহিংসতায় অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে অবরোধ কর্মসূচি শুক্রবার ভোর পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোল জানাচ্ছেন দক্ষিণ পশ্চিমে সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে গুলিতে জামায়াতের একজন কর্মী নিহত হয়েছে বলে দলটি দাবি করেছে।

এদিকে চট্টগ্রামের পটিয়ায় অবরোধ সমর্থকদের ধাওয়ায় টেম্পো উল্টে গেলে এর চালক নিহত হন বলে পুলিশ জানাচ্ছে।

সাতক্ষীরাতেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য গাছ কাটার সময় পথচারী এক মহিলা গাছ চাপা পড়ে মারা গেছেন।

অন্যদিকে , অবরোধের প্রথমদিনে ককটেল হামলায় আহত একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন কর্মচারী আজ মারা গেছেন।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানায় অবরোধ সমর্থক, সরকার সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গাজীপুরে কালীগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে পুলিশ জানাচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি অবশ্য এ ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নয় বলে জানিয়েছে।

Image caption অটোরিক্সায় আগুন দেওয়া হয়েছে রাজধানী ঢাকাতেও

এনিয়ে দু’দিনের অবরোধে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।

অবরোধের দ্বিতীয়দিনে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং বরিশাল সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বিরোধীজোটের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামে অবরোধের সমর্থকরা সিএনজি চালিত একটি অটোরিক্সায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

এতে এর যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

রাজশাহী এবং চাঁদপুরসহ আরও কয়েকটি জায়গা থেকেও পুলিশের সাথে বিরোধীজোটের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

অবরোধের দ্বিতীয় দিনেও ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি রেললাইন অবরোধ এবং লাইন উপরে ফেলাসহ নানা ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেছে।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় রেল চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। সড়কপথে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নির্বাচন প্রত্যাখ্যান

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ১৮ দলীয় জোট তা প্রত্যাখ্যান করে এই অবরোধের ডাক দেয়।

নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে যে সামনের বছরের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন হবে।

Image caption চট্টগ্রামে অবরোধকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত একজন পুলিশ সদস্য

ঢাকায় অবরোধ কর্মসূচি মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন এলাকা থেকে সহিংসতার খবর এসেছে।

বিরোধী জোটের সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধ শুরু হয় গতকাল সকাল ছ'টা থেকে।

বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টায় এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা থাকলে বিএনপির পক্ষ থেকে কর্মসূচির মেয়াদ শুক্রবার ভোর পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অনেক জায়গাতেই রেললাইন উপড়ে ফেলার পর রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো সংবাদ দিচ্ছে।

সংবাদদাতা কাদির কল্লোল জানাচ্ছেন, ঢাকায় সহিংসতা এড়াতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।

বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিজিবির সদস্যদের।

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা-সহ সারা দেশে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা, যানবাহন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

বিরোধী জোট আগেই ঘোষণা করেছিল, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেই দেশজুড়ে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।