শ্রীলংকায় গৃহযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা জানতে শুমারি

Sri lanka

শ্রীলংকার সরকার বলছে, সেদেশে ২৬ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সময় কত লোক নিহত হয়েছে তা বের করতে দেশব্যাপী এক জনগণনা শুরু করা হচ্ছে।

আগামী ছয় মাস ধরে হাজার হাজার কর্মকর্তা দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবেন।

এই গৃহযুদ্ধের শেষ দিকে ২০০৯ সালে উত্তর শ্রীলংকায় তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের দমনের জন্য যে সেনা অভিযান চালানো হয়েছিল, সেসময় বিপুল সংখ্যক বেসামরিক লোক নিহত হবার অভিযোগ ওঠে।

আরো অভিযোগ ওঠে যে শ্রীলংকার সরকারের ওই সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের সময় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তামিল বেসামরিক লোকদেরকে গণহারে হত্যা করা হয়েছে। শ্রীরংকার সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

একে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হবার পর এই জরিপ চালানোর কথা বলা হলো।

শ্রীলংকার এই গৃহযুদ্ধের সময় ঠিক কত লোক নিহত হয়েছেন, তা নিয়েও কোন সুনির্দিষ্ট হিসেব পাওয়া যায় না। বিভিন্ন সূত্রে এই সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত যে কোন কিছু হতে পারে বলে অনুমান করা হয়।

Image caption কমনওয়েলথ সম্মেলনের উদ্বোধন

তবে শ্রীলংকার স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব পি বি আবেইকুন দাবি করছেন, এসব অনুমান অনেক ক্ষেত্রেই ভিত্তিহীন।

বিবিসিকে তিনি বলেন, "কোন ভিত্তি ছাড়াই অনেক লোক এটা নিয়ে মন্তব্য করছে। চল্লিশ হাজার পঞ্চাশ হাজার বা এক লাখ - এই সমস্ত সংখ্যার ভিত্তি কি? কেউ হয়তো দু লাখ বা তিন লাখ নিহতের কথাও দাবি করতে পারে। ঠিক এই কারণেই আমরা এই শুমারিটি করছি - প্রতিটি বাড়িতে যাচ্ছি। যাতে নিহতের সঠিক সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়। সরকার চায়, নির্ভুলভাবে এটা বের করতে।"

এ মাসের শুরুতে শ্রীলংকায় কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবার সময়ও এসব অভিযোগ ব্যাপক আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।

সম্মেলনের ওপরও এ বিতর্কের ছায়া পড়েছিল। ভারত, কানাডা এবং মরিশাস - এই তিনটি দেশের সরকারপ্রধানরা ওই সম্মেলনে প্রতিনিধিদল পাঠালেও নিজেরা উপস্থিত হননি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, তবে তিনি যুদ্ধাপরাধের ইস্যুটি তুলে ধরার জন্য তার উপস্থিতিকে কাজে লাগান।

এখন শ্রীলংকার সরকার যে জনগণনার উদ্যোগ নিয়েছে - তা ওই সময় কি ঘটেছিল তা তদন্ত করার নিজস্ব প্রয়াসেরই অংশ।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর মধ্যেই এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেছে, এর কোন বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।