অবরোধে ঢাকায় অগ্নিদগ্ধ আরো একজনের মৃত্যু

  • ২৯ নভেম্বর ২০১৩
bd_arson_victim
Image caption হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধদের একজন

বাংলাদেশে ১৮-দলীয় বিরোধীজোটের ডাকা অবরোধ কর্মসূচির সময় রাজধানী ঢাকায় বাসে আগুন দেবার এক ঘটনায় অগ্নিদগধ লোকদের মধ্যে আরো একজন হাসপাতালে মারা গেছেন।

অবরোধের তৃতীয় দিনে বৃহস্পতিবার ঢাকার রমনা এলাকায় মৎস্য ভবনের সামনে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হলে অন্তত ১৮ জন অগ্নিদগ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর এক ব্যক্তি গত মধ্যরাতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

এর পর আজ দুপুরের পর আরো একজন মারা গেছেন বলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের প্রধান ডা. সামন্তলাল সেন জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, অগ্নিদগ্ধ অন্য যারা চিকিৎসাধীন আছেন তাদের অনেকের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে এবং বেশির ভাগের অবস্থাই এখনো আশংকাজনক।

শুক্রবার সর্বশেষ এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে অবরোধের সময় সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ১৮তে পৌঁছালো।

এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেছে - যাতে 'উস্কানিদাতা' হিসেবে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নেতা মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভী, মীর্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমানউল্লাহ আমান ও বরকতউল্লাহ ভুলু সহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

বিরোধীদল বিএনপির নেতারা অবশ্য কোন নাশকতায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেছেন, 'সরকারের এজেন্টরাই' এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

Image caption বগুড়ায় কেটে ফেলা রেললাইন

রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম শিবলী নোমান বলছিলেন, বোমা মেরে বাসে আগুন লাগানো এবং তাতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার ওই ঘটনায় উস্কানী দেয়ার অভিযোগে বিরোধী দলীয় জোটের মোট ১৬ জন নেতার নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ।

এছাড়াও ওই ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে ওই মামলায় দুই-তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিএনপি-নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় বিরোধীজোটের যে দাবি - তা পূরণ হবার আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে এই রাজপথ-রেলপথ-নৌপথ অবরোধ ডাকা হয়েছিল।

এই অবরোধ কর্মসূচি শুক্রবার ভোরে শেষ হয়েছে। এ সময় সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতা, বোমা, গুলিবর্ষণ, যানবাহনে অগ্নিসংরযাগ, রেললাইন উপড়ে ফেলাসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।