ভারতে সমকামিতাকে অপরাধ গণ্য করে পুরনো আইন বহাল

  • ১১ ডিসেম্বর ২০১৩
Image caption সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সমকামীদের প্রতিবাদ

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতাকে অপরাধ গণ্য করে পুরনো আইন বহাল রাখার পক্ষে রায় দিয়েছে।

তবে সুপ্রিম কোর্ট একথাও জানিয়ে দিয়েছে যে এ বিষয়ে আইনে কোনোরকম পরিবর্তন আনার দায়িত্ব ভারতীয় সংসদের।

ভারতে ঔপনিবেশিক আমলে চালু আইনে সমকামিতা ছিল দশ বছরের কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ যা খারিজ করে ২০০৯ সালে রায় দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায় ভারতের সমকামীদের জন্য একটা বড় ধরনের ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জি এস সাংভি যখন এই রায় ঘোষণা করেন, তখন আদালতের বাইরে সমকামী গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধি এবং অধিকার কর্মীরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করেন। অনেককেই প্রশ্ন তোলেন, এই রুলিং-এর ফলে ভারতে আইনের চোখে তারা অপরাধীতে পরিণত হলেন কিনা।

মানবাধিকার আইনজীবী কোলিন গনজালভেস বলছেন তাদের জন্য এই রায় এক বিরাট আঘাত।

“আমি বলবো, এটা একটা বড় আঘাত এবং সারা জাতি এখন শোকাহত। হাই কোর্টের রায়ে সকল ভারতীয় গর্বিত ছিলেন। এখন এমন একটা রায় হলো যা পশ্চাৎমুখী, দেশকে তা পিছিয়ে দিলো।” বলেন তিনি।

ভারতের সমকামীরা অনেক বছর ধরেই আন্দোলন করে আসছে যেন ভারতে গভীরভাবে রক্ষণশীল সমাজ তাদেরকে মেনে নেয়।

তারা বলছে, এটি একটি পশ্চাৎমুখী রুলিং এবং ভারতের সমকামীদের অধিকারে ক্ষেত্রে এটি একটি কালো দিন।

কিন্তু যারা এর আগের রুলিংটিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, তাদের আইনজীবী ইজাজ মকবুল বলছেন, তা মোটেও নয়।

তিনি বলেন, “এটা পশ্চাৎমুখী রায় নয়। ভারতের মুসলিম, খ্রিস্টান এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু - সব সম্প্রদায় এবং তাদের আইনি সংস্থাগুলো একে চ্যালেঞ্জ করেছিল।”

এখন প্রশ্ন উঠেছে, ভারতের সরকার এ ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নেবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী কপিল সিবাল অবশ্য স্পষ্ট করে বলেন নি যে সরকার আইনের সংশোধনী চাইবে কিনা।

তিনি বলেন, “আইনের বৈধতার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের কথাই চূড়ান্ত। সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের মতকে সম্মান করতেই হবে। তবে আইন কি হবে সে ক্ষেত্রে সরকার ও পার্লামেন্টের ভূমিকাই আসল।”

সুপ্রিম কোর্টের এই রুলিং ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্টের একটি আদেশকে উল্টে দিয়েছে - যাতে ঔপনিবেশিক যুগের একটি আইনকে খারিজ করে দেয়া হয়েছিলো।

সেই আইনে একই লিঙ্গের মানুষদের মধ্যে যৌন কর্মকাণ্ডকে ১০ বছরের কারাদণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। ভারতের সমকামীদের প্রতিনিধিরা অবশ্য বলছেন, তারা তাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়ে যাবেন।