কাদের মোল্লার ফাঁসির পর দেশ জুড়ে সহিংসতা, নিহত ৩

  • ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩
bd_jamat_violence
Image caption ঢাকায় মতিঝিলে গাড়িতে আগুন

বাংলাদেশে ১৯৭১এর মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পর রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা-বিক্ষোভ, ভাঙচুর, যানবাহনে আগুন দেয়া এবং পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন।।

মি: মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর পরই সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দু’জনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। জেলাটির পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী বলেছেন, জামায়াত এবং ছাত্র শিবিরের মিছিল থেকে এই আক্রমণ এবং হত্যার ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় জামায়াত এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নোয়াখালী জেলা থেকেও সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া যশোর, সিরাজগঞ্জ ,চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আরও কয়েকটি জায়গাতেও সড়ক অবরোধ এবং সংঘর্ষ হয়।

রাজধানী ঢাকায় আজ শুক্রবারের নামাজের পর মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী-সমর্থকরা মিছিল বের করে।

একটি মিছিল থেকে আকস্মিকভাবে যানবাহন ভাঙচুর শুরু করা হয়। সেখানে বেশ কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশও কাঁদানেগ্যাস এবং ব্যাপক রাবার বুলেট ছুঁড়েছে।

ঢাকার রামপুরা এলাকাতেও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

ঢাকার বাইরে উত্তরের জেলা বগুড়ায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে মহাসড়কগুলোতে গাছ ফেলে অবরোধ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক মিলন রহমান জানিয়েছেন, বগুড়া বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে দেশের অন্যান্য জায়গা থেকে। এছাড়া শুক্রবার বগুড়ায় ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এবং ৭০টির বেশি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এসব ঘটনার জন্য পুলিশ জামায়াতকে দায়ী করেছে। তবে জামায়াত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর আবদুল কাদের মোল্লার গায়েবানা জানাযা করারও ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামী।

যশোরে রাস্তায় গাছ কেটে অবরোধ তৈরির সময় গাছের নিচে চাপা পড়ে একজন শিবির কর্মী মারা গেছেন।

Image caption আবদুল কাদের মোল্লা

এর আগে আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার পর রাতেই তাঁর মৃতদেহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে গ্রামের বাড়িতে থাকা আত্মীয় স্বজন, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ভোররাতেই পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন হয়।

বৃহস্পতিবার তাঁর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ খারিজ করার পর শেষ পর্যন্ত রাত দশটা এক মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

জামায়াত এর প্রতিবাদে রোববার দেশব্যাপী হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছে।

এদিকে আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার পর পরই বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রামের বাড়িতে ফরিদপুরের সদরপুরে দাফন করা হয়। শুক্রবার সেখানে জামায়াতের উদ্যোগে গায়েবানা জানাজা করা হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক পান্না বালা জানিয়েছেন, ফাঁসি কার্যকর করায় প্রতিক্রিয়া কি দাঁড়াতে পারে, তা নিয়ে ফরিদপুরে মানুষের মধ্যে এক ধরণের আতংক রয়েছে।